প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উলশী গ্রামে আনন্দ-উচ্ছ্বাস
যশোরের শার্শা উপজেলার প্রত্যন্ত উলশী গ্রামে আজ ভোর থেকেই উৎসবের আমেজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আগমনকে ঘিরে গ্রামবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
সকাল থেকেই উলশী খালের দুই পাড়ে জড়ো হয়েছেন নবীন-প্রবীণরা। কারও হাতে কোদাল, কারও মাথায় টোকা (মাথাল)। আবার কেউ সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায়। যশোরে পৌঁছেই দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে তিনি উলশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
আরও পড়ুন: প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সংসদে মির্জা ফখরুল
প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি বেতনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে এই খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন।
৯০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন সেই স্মৃতি মনে করে বলেন, তখন হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নিয়েছিলেন। “রাষ্ট্রপতি নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে তুলেছিলেন—আমরা সেই দৃশ্য চোখে দেখেছি,”—বলছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের ভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ কমিয়ে ৬ মাস করল সরকার
স্থানীয় কৃষক সাদেক আলী জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে, ফলে সেচব্যবস্থায় মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এই খাল পুনঃখনন হলে এলাকার কৃষিতে বড় পরিবর্তন আসবে।”
গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাবা যেভাবে খাল খনন করেছিলেন, আজ তার পথ ধরে ছেলে এসেছেন—এটা আমাদের জন্য গর্বের।”
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ঐতিহাসিক ফলকটি পরিষ্কার করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা রজনীগন্ধা ফুল হাতে তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। প্রবীণ বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, “কাছে যেতে পারব না, কিন্তু দূর থেকেই ফুল দেখিয়ে আমাদের ভালোবাসা জানাব।”
উলশী খাল পুনঃখননকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, সেচ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে।





