টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার শঙ্কা, নদীতীরের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৫ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অবিরাম ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একাধিক নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার ( ২৮ জুন)  প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সিলেট অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: দরিদ্র মানুষের জন্য এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার

পাউবোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সময়ে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে বিপদসীমার ওপরে উঠতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিরোধীদলীয় এমপিদের এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ

অন্যদিকে আগামী ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে এসব জেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় আংশিক প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলমান ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানির প্রবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।

এদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নিয়মিত আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।