আজ বিশ্ব বাবা দিবস

বাংলাবাজার পত্রিকা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৩ | আপডেট: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

‘এ তো রক্তের সাথে রক্তের টান 

স্বার্থের অনেক উর্ধ্বে’

আরও পড়ুন: আইকাও’র সহযোগিতায় সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

বাবাকে নিয়ে গায়ক জেমস-এর এই অসাধারণ গানে বাবার সাথে সন্তানের স্বার্থহীন সম্পর্কের কথা খুব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বাবার সঙ্গে সন্তানের কিছুটা দূরত্ব থাকে। যেটা মায়ের সাথে থাকে না। মায়ের সঙ্গেই সন্তানদের সম্পর্ক গভীর হয়। আমাদের জীবনে মা-বাবাই সবচেয়ে আপনজন। তাদের ভালোবাসা, স্নেহ, আদর, শাসনে বেড়ে উঠি আমরা। সন্তানদের জীবনে বাবার ভালোবাসা কম নয়। সন্তানদের পেছনে, পরিবারের পেছনে এই মহৎপ্রাণ লোকটি তার সারাটি জীবন ব্যয় করেন। সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই আজ দেশে দেশে পালিত হবে বাবা দিবস। আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

জুন মাসের তৃতীয় রোববার প্রতি বছর বিশ্বের ১১১ দেশে পালিত হয় বাবা দিবস। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকেই দিবসটি পালন করা শুরু হয়েছে। 

আরও পড়ুন: কুরবানি কাদের ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন নেসাব

বাবা দিবসের শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় চার্চের মাধ্যমে দিনটির প্রচলন। অন্যরা বলেন, ওয়াশিংটনের ভ্যাংকুভারে প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়। তবে সাধারণ মত, বাবা দিবসের প্রবক্তা সোনার স্মার্ট ডোড। যখন তার বয়স ১৬, তখন তার মা ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। পরিবারে সোনারই ছিলেন একমাত্র কন্যা। পূর্ব ওয়াশিংটনের এক গ্রামের ফার্মে এর পর থেকে ডোডের বাবা নবজাতকসহ পাঁচটি সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। সোনার বড় হওয়ার পর অনুভব করলেন, ছয়টি সন্তান একা একা মানুষ করতে কী ভীষণ পরিশ্রমই না তার বাবাকে করতে হয়েছে।

উইলিয়াম তার মেয়ের চোখে ছিলেন সাহসী, নিঃস্বার্থ একজন ভালো বাবা, যিনি সন্তানদের জন্য নিজের সব সুখ-শখ, আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছিলেন। সোনার স্মার্ট বিয়ে করেন জন ব্রোস ডোডকে। তাদের সন্তান জ্যাক ডোড জন্মের কিছুকাল পরে সোনারের স্বামীও মারা যান। এ অবস্থায় বাবা আর মেয়েতে মিলেই পুরো জীবন পার করে দেন তারা।

বাবার প্রতি সম্মান জানাতে ‘বাবা দিবস’ ঘোষণার বিষয়টি সোনারের চিন্তায় আসে ১৯০৯ সালে। ‘মা দিবস’-এর অনুষ্ঠানে সে বছর চার্চে যান সোনার ডোড। অনুষ্ঠানে এসেই তার মনে হয় মা দিবসের মতো বাবাদের জন্যও একটি দিবস করা প্রয়োজন, যেখানে মায়েদের মতো বাবাদেরও সম্মান জানানো হবে। প্রকাশ করা হবে ভালোবাসা। যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেন মন্ত্রিসভার কাছে তিনি তার পিতার জন্মদিন ৫ জুনকে বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব পাঠান। 

তার প্রস্তাবের প্রশংসা করলেও মন্ত্রিসভা ৫ জুনকে বাবা দিবস ঘোষণা করতে রাজি হয়নি। তারা জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। একটি স্থানীয় পত্রিকা সেদিন ছুটি ঘোষণা করে। দোকানদাররা বহু উপহারসামগ্রী সাজিয়ে রাখেন বাবাদের জন্য।