লাইফ সাপোর্টে যুবদল নেতা সাজ্জাদুল মিরাজের ছেলে রোজান, দোয়া চাইল পরিবার

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:২২ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজের ১৮ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজুল ইসলাম রোজান গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। রোজানের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার।

রোজান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নির্ঝর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনে মেধা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সময়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য কে এই ফরহাদ হালিম ডোনার

পরিবারের ভাষ্য, এইচএসসি পরীক্ষার শেষ সময়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন রোজান। চার দিন আগে ব্যবহারিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।

পরে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে মিরপুর-১১-এর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে একপর্যায়ে তাঁকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়ি ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ১০

সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, রোজান বরাবরই ভালো ছাত্র ছিলেন। ভালো ফল করার বিষয়ে তাঁর নিজের ওপর অনেক চাপ ছিল। একটি-দুটি পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘একটি পরীক্ষা জীবনের সবকিছু নির্ধারণ করে না—এ কথা আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’

সাজ্জাদুল মিরাজ জানান, রোজানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছে। তাঁর রক্তে শর্করা, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র, সোডিয়াম, রক্তচাপ, হিমোগ্লোবিন ও ফুসফুসে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকদের একটি বোর্ড তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। চিকিৎসকদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোজানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাসপাতালে ছুটে আসছেন। তাঁর সুস্থতার জন্য বিভিন্ন এলাকায় দোয়া, মিলাদ, কোরআন খতম ও সদকার আয়োজন করা হচ্ছে। অনেকে হাসপাতালের বাইরে রাত জেগেও অপেক্ষা করছেন।

সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, ‘রোজান শুধু আমার সন্তান নয়, ছোটবেলা থেকেই অনেক নেতাকর্মীর আদর-ভালোবাসায় বড় হয়েছে। আজ তার জন্য মানুষের যে ভালোবাসা ও দোয়া দেখছি, একজন বাবা হিসেবে এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো একজন বাবা যখন সন্তানের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন পদ-পদবি বা ক্ষমতা কোনো কিছুই বড় মনে হয় না। মানুষের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসাই তখন সবচেয়ে বড় শক্তি।’

রোজান নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে বিএনসিসির ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছেন জানিয়ে তাঁর বাবা বলেন, ছেলের আকস্মিক অসুস্থতা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

আধুনিক চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রোজান দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার তাঁর কাছে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সাজ্জাদুল মিরাজ।

রোজানের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রেখে তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তাঁর বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।