রাজপথে রাজনৈতিক উত্তাপের আভাস

রাজধানীতে ৩ দিনের ছুটিতে তিন দলের জনসমাবেশ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ | আপডেট: ৩:২৮ অপরাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ মে) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী ঢাকায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর তিনটি বড় জনসমাবেশ ঘিরে রাজপথে বাড়তি উত্তাপ ও নিরাপত্তা সতর্কতা দেখা দিতে পারে। পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিটি সমাবেশেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ

আরও পড়ুন: ঋণখেলাপিদের জন্য বাংলাদেশ ‘জাহান্নাম’ বানিয়ে দেব: হাসনাত আবদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১ মে বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় নয়াপল্টনে শ্রমিক সমাবেশ করবে বিএনপি। ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত থাকবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ থেকে নেতা-কর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেবেন।

শুক্রবার এনসিপির ফ্যাসিবাদবিরোধী সমাবেশ

আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার ঘোষণা স্থগিত

শুক্রবার(২ মে) বিকেল ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে সমাবেশ করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ দল হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার দাবি করছে। এছাড়াও ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের ‘গণহত্যা, গুম ও খুন’-এর বিচার দাবি তোলা হবে। ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে দলটি।

শনিবার হেফাজতের মহাসমাবেশ

শনিবার (৩ মে ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাতিল, সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহাল, মুসলিম নিপীড়ন বন্ধ এবং রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার। হেফাজত বলছে, তারা ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ‘৫ মে দিবস’ পালন না করে ৩ মে ছুটির দিনেই কর্মসূচি নিয়েছে।

নিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা

এই তিনটি বড় সমাবেশ ছুটির দিনগুলোতে হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট, জনজীবনে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশগুলো শুধু দলীয় অবস্থান জানান দেওয়া নয়, বরং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।