বন্দরনগরীতে উৎসবের আমেজ
দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির সিনিয়র নেতারা ও চট্টগ্রাম মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।
আরও পড়ুন: যুবদলের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবদলের ফুলেল শুভেচ্ছা
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। নগরীর প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও অলিগলিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা।
মহাসমাবেশকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই পলোগ্রাউন্ড মাঠে চলছে জোর প্রস্তুতি। মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজারের বেশি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। আয়োজকদের মতে, প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের এই মঞ্চে একসঙ্গে দেড় হাজারের মতো মানুষ বসতে পারবেন। মঞ্চের সামনে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদল সহ সভাপতি ডাঃ আউয়ালের নেতৃত্বে মিছিল
সমাবেশ সফল করতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মাইক এবং ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহার করা হবে প্রায় ২০০টি মাইক। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ সমতল করা হয়েছে, চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিয়ে মাঠে পানি ছিটানো হয় ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীকে আনা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকাকে তিনটি নিরাপত্তা স্তরে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন তারেক রহমান।





