উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন কৌশল

এনসিপির নজরে ‘অভিমানী’ ও ‘বঞ্চিত’ নেতাকর্মী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৪ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নতুন এই রাজনৈতিক দলটি মাঠ পর্যায়ে অবস্থান সুদৃঢ় করতে বড় দলগুলোর ভেতরে থাকা ‘অভিমানী’ ও ‘বঞ্চিত’ নেতাকর্মীদের দলে টানার পরিকল্পনা করছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দীর্ঘদিনের ত্যাগী কিন্তু বর্তমানে উপেক্ষিত নেতাদের প্রতি এনসিপির বিশেষ নজর রয়েছে। পাশাপাশি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন—এমন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর সাবেক সদস্যদের জন্যও দলটির দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুন: যুবদলের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবদলের ফুলেল শুভেচ্ছা

জুলাইয়ের আন্দোলনের পর আলোচনায় আসা এনসিপি বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়। দলটি একদিকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে রয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক বিস্তারে জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বড় দলগুলোর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে তারা।

সম্প্রতি মনজুর আলম-এর চট্টগ্রামের বাসভবনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ-র বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে রুমিন ফারহানা এবং ইসহাক সরকার-এর মতো পরিচিত মুখ এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন—এমন গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদল সহ সভাপতি ডাঃ আউয়ালের নেতৃত্বে মিছিল

দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ প্রক্রিয়াকে ‘দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের এনসিপি স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এ প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমান-এর রাজনৈতিক দর্শনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, যোগ্য কিন্তু অবমূল্যায়িত নেতাদের জন্য বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

এনসিপি জানিয়েছে, সাংগঠনিক বিস্তারে তারা একটি মধ্যপন্থা অনুসরণ করছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে অপরাধ বা স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—এমন যে কেউ এনসিপির আদর্শে বিশ্বাসী হলে তাকে দলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলগুলোর ভেতরের কোন্দল ও অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে এনসিপি স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছে। দলটির নেতাদের প্রত্যাশা, এই কৌশল উপজেলা নির্বাচনে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।