টঙ্গীতে ৮ দাবিতে গার্মেন্টসকর্মীদের মহাসড়ক অবরোধ
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএইচআইএস অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বেতন-বোনাসসহ আট দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে মহাসড়কের উভয়পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব, পশ্চিম থানা ও শিল্পপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হোসেন মার্কেটের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন দত্তপাড়া লেদু মোল্লা রোডে বিএইচআইএস অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা।
আরও পড়ুন: ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির একক আধিপত্য, নাকি শেষ মুহূর্তে বড় চমক?
ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, ওই কারখানায় তারা প্রায় দুই হাজার ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। কয়েক দিন যাবত চলতি জুন মাসের অর্ধেক বেতন ও ঈদুল আজহার বোনাস চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বেতন-বোনাসের বিষয়ে রোববার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
একপর্যায়ে তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ২০ তারিখের মধ্যে চলতি মাসের অর্ধেক বেতন ও ঈদ বোনাস, বার্ষিক ছুটির টাকা, ওভারটাইম কর্তন না করা, রিজাইন দিলে যথাসময়ে পাওনা পরিশোধ করা, প্রতিমাসের বেতন পরবর্তী মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ, মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা যথাসময়ে পরিশোধ, ওভারটাইম রাত ৯টা পর্যন্ত নয়, কারখানার কর্মকর্তা ইসমাইল ও শামীমকে চাই না এবং ছুটি ও গেট পাশ কেন দেওয়া হয় না— এসব দাবি উত্থাপন করে কাজ বন্ধ রেখে বাসায় চলে যায়।
আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় মোবাইল চুরির ঘটনায় ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা কৃষকদল নেতা নিহত
পরে সোমবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এলে কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে কারখানা ছুটি ঘোষণা করেন। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কে চলাচলরত অফিস-আদালতগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ যাত্রীসাধারণ ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব, পশ্চিম থানা ও শিল্পপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেতন-বোনাসের আশ্বাস দিলে সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
এ ব্যাপারে টঙ্গী শিল্পপুলিশের এসআই ওসমান গনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।





