নিখোঁজের তিন দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা নাঈম রহমান উদ্ধার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, ১২ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, ১২ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নাঈম রহমানের সন্ধান মিলেছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাতে মাদারীপুরের একটি হোটেল থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এর আগে রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে নাঈম রহমানের সঙ্গে তার পরিবার ও সহকর্মীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ওইদিনই তার মা সাজ্জাদা রহমান জলি ঢাকার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আরও পড়ুন: হেমায়েতপুরে সড়ক-ফুটপাত দখল: নিত্যদিনের যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

নাঈম রহমানের নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জিডির পর পুলিশ তার মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং শুরু করে, এবং মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুরে তার অবস্থান শনাক্ত হয়। পরে রাতে হোটেল কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ফেসবুকে নাঈমকে পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি পোস্টে লিখেছেন, পুলিশ ও মাদারীপুর প্রশাসনের সহযোগিতায় নাঈমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সবার দোয়া ও প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরগঞ্জে ধান কেটে ফেরার পথে হামলা: আহত ১০

গণমাধ্যমকে মাসুম বিল্লাহ বলেন, নাঈমকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে কেন, কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।

নাঈমের মায়ের জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ৯ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে আমার ছেলে উত্তর পীরেরবাগের বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যায়। পরে আর ফেরেনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও জানানো হয়, রোববার সকালে তিনি অফিসে যোগ দেন, তবে দুপুর ১২টার পর নিজের ব্যাগ ও আইডি কার্ড রেখে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি যোগাযোগের বাইরে ছিলেন।

পরে সহকর্মীদের কাছে পাঠানো একটি শেষ এসএমএসে নাঈম লিখেছিলেন, “আমার আর্থিক অবস্থার জন্য আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। অফিসের কয়েকজনের কাছ থেকে ধার নিয়েছি, কিন্তু এখন ফেরত দিতে পারছি না। মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই।

তিনি আরও লিখেছিলেন, পারলে আমার ছোট বোনটার জন্য একটা চাকরি জোগাড় করে দিবেন। আমার মা আর ছোট বোন আমাকে ছাড়া অসহায় হয়ে যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাঈমকে ঢাকায় এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।