ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হাতে দেশজ সবজি, আনন্দের হাট: চাঁদপুরে উদ্ভাবনী উৎসব

Sanchoy Biswas
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‘বেশি বেশি সবজি খাও, সুস্থ থাকো, কৃষি ও কৃষকের পাশে দাঁড়াও’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হলো দেশজ সবজি উৎসব।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলে অনুষ্ঠিত এই উৎসব শিশুদের জন্য এক ব্যতিক্রমী শিক্ষা ও আনন্দের দিন হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়

উৎসবে অংশ নেওয়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ডালায় সাজানো বিভিন্ন সবজির নাম, গুণাগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে। এছাড়াও তারা একে অপরকে পরিচিত সবজি সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করেছে, যা তাদের মধ্যে সবজি বিষয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ বাড়িয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুদের দেশীয় সবজির প্রতি আগ্রহী করতে এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর ফাস্টফুড থেকে দূরে রাখতে এই আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে এবং প্রায় ৩০টির বেশি দেশীয় সবজি প্রদর্শিত হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বরবটি, শিম, মটরশুটি, ফুলকপি, ব্রকোলি, কুমড়া, কুমড়ার ফুল, কাঁচা কলা, কলা গাছের আইলকা, বিভিন্ন প্রজাতির শাক, ধনেপাতা, লেটুসপাতা, বাঁধাকপি, সজিনা পাতা, লাউ, থানকুনিপাতা, গাজর, মূলা, শালগম, বিট, আলু, পেঁপে, টমেটো, বেগুন, করলা, কাকরোল, ঢেঁড়শ, পটল, শশা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুতকৃত ৬টি ভোটের সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

শিক্ষার্থী মেহজাবিন, তাসরিক আরাফ ও মিন্ময় বলেন, “এই আয়োজনের ফলে আমরা অনেক ধরনের সবজির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। সবজির পুষ্টিগুণ জানতে পেরেছি এবং অন্যকে জানাতে পেরেছি।”

অভিভাবকরা জানান, “এতো সবজি একসঙ্গে আমাদের শিশুদের কখনও দেখা হয়নি। উৎসবের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সবজি সম্পর্কে জানতে পারছে এবং ভবিষ্যতে সবজি খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হবে। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন হওয়া উচিত।”

চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের উপাধ্যক্ষ মৃদুল কান্তি দাস, সহকারী শিক্ষক নাজনীন হোসাইন ও নুসরাত জাহান বলেন, “বাংলাদেশে এভাবে শিশুদের জন্য সবজি উৎসব করা আর কোথাও হয়নি। আমাদের স্কুলেই প্রথম এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এত সবজি একসঙ্গে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছে এবং দেশীয় সবজি চিনতে শিখেছে।”

অধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি দাস বলেন, “সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে শিশুরা ফাস্টফুডের প্রতি বেশি আকৃষ্ট, অথচ দেশীয় সবজিতে প্রচুর ভিটামিন ও ঔষধি গুণ রয়েছে। এগুলো শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক। এছাড়াও, আজকাল বেশিরভাগ সবজি বছরের ১২ মাসই পাওয়া যায়। তাই দেশীয় সবজি হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই কারণেই শিক্ষার্থীদের সবজির প্রতি আগ্রহী করতে এবং ক্ষতিকর খাদ্য থেকে দূরে রাখতে এ উৎসব আয়োজন করা হয়েছে।”

উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। শেষদিকে শিক্ষার্থীরা যে সবজি নিয়ে এসেছে, তা দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয় এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একসঙ্গে উপভোগ করেন।

চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও দেশীয় সবজির প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।