সকাল ও বিকেলে পাওয়া গেলো দুই মরদেহ, জনমনে আতঙ্ক

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীতে একইদিনে পৃথক দুই স্থানে নিখোঁজের পর ডোবায় স্কুলছাত্র এবং নদীতে অর্ধগলিত একব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে। এঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে সদর উপজেলার শীলমান্দি ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের বাড়ীর পাশে একটি ডোবা থেকে জুনায়েদ (৭) নামে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একছাত্রের লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ। অপরদিকে একই দিনে বিকেলে নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চরআড়ালিয়ার বড়চর মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে একব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে করিমপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষায় সকল প্রার্থীই বাদ

স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, নিহত স্কুল ছাত্র জুনায়েদ (৭) বাগহাটা গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে। সে ওই এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে  জুনায়েদ বাড়ি থেকে বের হয়। সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসে নাই। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা  বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। পরে বুধবার সকাল ৮টার দিকে নিহতের বাড়ির পাশের একটি ডোবাতে তার মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পরিবারের দাবি, নিহত জুনায়েদের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে অন্যত্রে হত্যা মরদেহ ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। তবে কি কারণে এই হত্যাকান্ড তা কেউ বলতে পারছে না। তার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ইউপি মেম্বারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে কি কারণে এই হত্যাকান্ড তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

অপর আরেক ঘটনায় নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে চরআড়ালিয়ার বড়চর মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে করিমপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি। 

এবিষয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ সুব্রত পোদ্দার বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহ অজ্ঞাত পুরুষ। অনুমান ৫/৭ দিন পূর্বে ভিকটিমের মৃত্যু হয়। শরীরে পঁচন ধরায় আঘাতের চিহ্ন বোঝা যায়নি। মৃতদেহের বিভিন্ন অংশের চামড়া ও মাংস খসে পড়েছে। ভিকটিমের পরিচয় উদঘাটনের জন্য ডিএনএ প্রোফাইল করার জন্য সুরতহাল রিপোর্টে আবেদন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অপরদিকে একই দিনে সকাল-বিকাল নদী ও ডোবায় লাশ পাওয়া শহর জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরবাসী মনে করেন, এসব হত্যা, দস্যুতা ও রাহাজানি রোধ করতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি পুলিশী টহল বৃদ্ধি সহ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু আইনের আওতায় আনলেই চলবে না ওইসব অপরাধীরা যে দূর্বল এবং আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখবে হবে বলে মত প্রকাশ করেন।