শ্রীপুরে সিজারিয়ান অপারেশনে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, কর্তৃপক্ষ পলাতক

Sanchoy Biswas
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৬ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লাইফ কেয়ার হাসপাতাল। ছবিঃ সংগৃহীত
লাইফ কেয়ার হাসপাতাল। ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতাল-এ ভুল চিকিৎসায় রুমা (২৫) নামে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল মৃতদেহ রেখে কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে।

নিহত রুমা উপজেলার উজিলাব গ্রামের মোঃ মানিক মিয়ার স্ত্রী এবং হেরা পটকা গ্রামের আঃ রশিদ ও সালেহা বেগমের মেয়ে।

আরও পড়ুন: ‎করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (৮ মার্চ) রোববার সকালে প্রসব বেদনা নিয়ে রুমা মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের পর রুমা জীবিত ছিলেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেন।

তবে ঘটনার পরদিন সোমবার ভোর ৫টার দিকে স্বজনরা রুমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনদের অভিযোগ, রুমার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে ঢাকা পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে। ঢাকা নেওয়ার পথেই স্বজনরা বুঝতে পারেন রুমা আগেই মারা গেছেন। এরপরই লাইফ কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার পর আরিচা মহাসড়কে নিন্ত্রণহীনভাবে অটোরিকশা চলাচল

কর্তৃপক্ষের এমন রহস্যজনক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে হাসপাতাল ভবনে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পরপরই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে গিয়ে ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতিকে যখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে (অবজারভেশন) রাখা হয়েছিল, তখন হাসপাতালে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। মূলত যথাযথ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম জানান, “হাসপাতালটিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে। এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিহতের স্বামী মোঃ মানিক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলে এখন গা ঢাকা দিয়েছে। আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের খুঁজে পেতে কাজ করছে প্রশাসন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।