জাতীয়তাবাদী আদর্শের সংগ্রামী নেত্রী মিনা বেগম মিনির ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে

Sanchoy Biswas
সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৩ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্বস্তরের মানুষকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অব বাংলাদেশ অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রেরিত শুভেচ্ছা বার্তায় অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি বলেন, "ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে একসাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি। ঈদ বয়ে আনুক আমাদের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।"

আরও পড়ুন: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্মৃতিফলকের পাশে টয়লেট নির্মাণে বাউফলে উত্তেজনা

পরিচয় ও পেশাগত দক্ষতা

অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সন্তান। ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী এই আইনজীবী দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। বর্তমানে তিনি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অব বাংলাদেশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ঢাকা কমার্স কলেজের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য হিসেবেও কর্মরত আছেন। তিনি এলএলবি এবং এলএলএম (মাস্টার্স অব ল') ডিগ্রিধারী একজন প্রাজ্ঞ আইনবিদ।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল: যুবক গ্রেফতার

রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আদর্শিক অঙ্গীকার

অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দেড় যুগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা ও অন্যায় জেলজুলুমের বিরুদ্ধে আদালতে এবং রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেছেন তিনি। পুলিশি নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় পীড়নের শিকার হলেও কখনো পিছপা হননি এই সংগ্রামী নেত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পেনাল কোড ১৮৬০ ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রমাণ বহন করে।

২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে—সিটি মেয়র, পৌরসভা চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সকল নির্বাচনে—তিনি সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ (বিজয়নগর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা

সাংগঠনিক পরিচয়ের দিক থেকে অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক (কেন্দ্রীয় কমিটি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নতুন প্রজন্ম দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (২০১৫-২০১৬), বাংলাদেশ দরিদ্র উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন।

সামাজিক কার্যক্রম ও মানবিক উদ্যোগ

শুধু আইন ও রাজনীতিতে নয়, সমাজসেবায়ও অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি সমানভাবে নিবেদিত। তিনি নিয়মিত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এবং এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণে সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন। এছাড়াও প্রতিবন্ধী ও বয়োবৃদ্ধ অসহায় মানুষদের চলাচলের সুবিধার্থে লাঠি প্রদান এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর মানবিক চরিত্রের পরিচয় স্পষ্ট।

মনোনয়ন প্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা

অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি বলেন, "সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। আমার দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের সঞ্চিত শক্তি দেশের মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করতে চাই। আমি সকলের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করছি।"

ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ এবং মনোনয়ন ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মাঝে অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনিকে ঘিরে যে ব্যাপক আলোচনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন রাজনীতিতে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।