ঋণ করে বোরো ধান চাষ করা কৃষকদের মাথায় হাত

নান্দাইলে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২০২ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে

Sanchoy Biswas
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:০১ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলতি বোরো মৌসুমে ৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। দেশে কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২০২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ৭০৫ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ঋণ নিয়ে চাষ করা স্থানীয় বোরো ধান চাষি কৃষকরা।

একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও পানি নিষ্কাশনের পথে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ার ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কয়েক’শ কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে। ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা যাচ্ছে না বলেও কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন।

আরও পড়ুন: তাড়াশে সাবেক এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

উপজেলার আচারগাঁও, নান্দাইল, গাংগাইল, চন্ডীপাশা, মোয়াজ্জেমপুর, বেতাগৈর, চরবেতাগৈর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, ধান চাষি কৃষকদের করুণ চিত্র। তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা ধান কাটতে কাউকে হাঁটুসমান পানিতে নামতে হচ্ছে, কেউ কেউ বুকসমান পানিতে নেমে, কেউবা নৌকা/ভেলায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেক কৃষককে ফসলের দিকে তাকিয়ে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ভারী বর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ ধরার জন্য বিল ও খালে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখায় তা দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না। এছাড়া ফসলি জমিতে যত্রতত্র ও অপরিকল্পিত পুকুর খনন করায় পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: রূপপুর প্রকল্পে ব্যায়াম করার সময় রুশ নাগরিকের মৃত্যু

শিমুলতলা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, ধান কাটার জন্য শ্রমিক না পাওয়ায় ও আগাম বৃষ্টিতে আমাদের ক্ষেতের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।

ভাটি সাভার গ্রামের আজিজুল হক বলেন, একদিকে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, অন্যদিকে এই সুযোগে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। ফলে দ্বিগুণ চাপে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আমাদের উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে পারছি না। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নান্দাইল উপজেলায় ৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ২০২ হেক্টরের বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল বলেন, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন দিশেহারা। জলাবদ্ধতার জন্য অবৈধ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুরই প্রধান দায়ী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, বিল বা জলাশয়ে পুকুর নির্মাণে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ করে অবৈধভাবে কেউ বাঁধ দিলে বা পুকুর নির্মাণ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০২ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। কৃষকরা যাতে অবশিষ্ট ধান কেটে দ্রুত ঘরে তুলতে পারেন, সেজন্য মাঠপর্যায়ে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।