সরকারি নির্দেশ ছাড়াই বন্ধ নরসিংদীর পেট্রোল পাম্প, বিপাকে মোটর চালকরা

Sanchoy Biswas
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১০:৩৯ অপরাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:১৭ পূর্বাহ্ন, ২৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারের কোনো রকম নির্দেশ ছাড়াই বন্ধ রয়েছে নরসিংদীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পগুলো। এদিকে পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন মোটর চালক ও মালিকেরা। অপরদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরকারি এক নির্দেশনায় বলা আছে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল দেওয়ার কথা থাকলেও, মালিকপক্ষ তা মানছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

নরসিংদীর বিভিন্ন সড়কের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন পাম্পগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলে ২ লিটার ও প্রাইভেটকারে ১০ লিটার রেশনিং পদ্ধতি চালু থাকার পরেও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেই তেল।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের: দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-১

শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের বোরাক ফিলিং স্টেশন, সাটিরপাড়ার আজাদ ফিলিং স্টেশন ও সাহেপ্রতাব আজাদ ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ দেখা যায়। সেখানকার কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চার দিন ধরে তারা ডিপো থেকে তেল পাচ্ছেন না। সে জন্য মালিকপক্ষ পাম্প বন্ধ রেখেছেন।

বেলা আড়াইটার দিকে শহরের বাইরে ইটাখোলা, শিবপুর ও চৈতন্যা সহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোর একই অবস্থা। রয়েছে বন্ধ। এসময় দেখা যায় চালকরা তাদের প্রয়োজনীয় তেলের জন্য এসে ফিরে যাচ্ছেন। ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, দুই দিন আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে; এখন পর্যন্ত তেল আসেনি। ডিপো থেকে আজকে তেল আসবে কি না, সেটিও নিশ্চিত করে তিনি বলতে পারেননি।

আরও পড়ুন: বাউফলে আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

বাইক চালক রাহিদ রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাম্প কর্মচারীরা তেল দিচ্ছে না। তেল নিতে পাম্পে গেলে তারা তালবাহানা করে বলে সরবরাহ নেই। কিন্তু গভীর রাতে এসব পাম্পের কর্মচারীরা যোগসাজশে জেরিকেন ও প্লাস্টিকের বড় বড় ড্রামে করে শত শত লিটার তেল বেশি দামে বাইরে বিক্রি করে থাকে। আর এসব তেল ঠিকই বাইরের ছোটখাটো দোকানগুলোতে দুই গুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাহলে তারা তেল পায় কোথা থেকে?—এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ওই ভুক্তভোগী বাইক চালক।

আরেক প্রাইভেটকার চালক রোহান মিয়া বলেন, আমার গাড়ি তেলচালিত। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে ঢাকা যাব। কিন্তু পাম্প থেকে তেল দিচ্ছে না। এদিকে সরকার স্পষ্টভাবে বলছে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুদ রয়েছে। তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তাহলে পাম্প থেকে তেল দিতে গড়িমসি করছে কেন?

প্রাইভেটকারে বসা যাত্রী বলেন, এগুলো পাম্প মালিকদের কারসাজি। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় এগুলো করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা বলেন, তেলের পাম্প বন্ধ রাখার সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই। পাশাপাশি তেলের কোনো ঘাটতিও নেই। তবে কেন পাম্পগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। আর যেহেতু অভিযোগ পাওয়া গেছে, জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।