পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নিল তাঁর অনুসারীরা

Sanchoy Biswas
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছেন তাঁর স্বজন ও অনুসারীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর মুন্সিরচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আসামি কবির খান (৪৫) চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর গ্রামের মৃত সুরমান খানের ছেলে। তিনি চর হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চরভদ্রাসন থানায় একটি মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পুরোনো কবর থেকে ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মুন্সিরচর বাজারে অভিযান চালিয়ে কবির খানকে গ্রেফতার করেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে মোটরসাইকেলে তোলার সময় কবিরের বড় ভাই সূর্য খান পুলিশের কাজে বাধা দেন। মুহূর্তের মধ্যে কবিরের ১০ থেকে ১৫ জন স্বজন ও অনুসারী পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং হাতকড়া পরা অবস্থায় তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হামলায় এসআই রফিকুজ্জামানের ডান হাত জখমসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর কবির খানকে মুন্সিরচর বাজার এলাকায় হাতকড়া ছাড়াই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। পরে বাজারের একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে পুলিশ হাতকড়াটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শৌচাগার সংকট, প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন কবীর আহমেদ ভূঞার

চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, কবিরের এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ অন্য হাতে ধরে রেখেছিল। কবিরের অনুসারী ও স্বজনেরা এসে হামলা চালিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়াটি উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা কবির খান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার আসামি। তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য আমাদের পাঁচজন পুলিশ সদস্য গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় তাঁর স্বজন ও অনুসারীরা। পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আসামি কবির খানকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’