উপজেলা পরিষদে এমপিদের ‘বসার জায়গা’ সংবিধান পরিপন্থী ও আত্মঘাতী

Sadek Ali
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:১৯ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সম্প্রতি পার্লামেন্টে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার জন্য সুসজ্জিত পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণকে সংবিধান পরিপন্থী ও আত্মঘাত হিসাবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার। তিনি এটিকে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতি ও বিএনপির ৩১ দফা পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি মাননীয় সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদ ভবনে ‘বসার জায়গা’ করে দেওয়ার জন্য নিম্নের প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, কারণ এর মাধ্যমে আমাদের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা-যা কেন্দ্রীয় সরকারের সমান্তরাল সংবিধান স্ব‍‍ীকৃত আরেকটি সরকার-ধ্বংস হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: বছরের শেষে চালু হতে পারে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল

এছাড়াও এটি সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন, যে অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ সদস্যদেরকে সুস্পষ্টভাবে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটি সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদেরও পরিপন্থী, কারণ এই অনুচ্ছেদে শুধু নি‍‍র্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদেরকেই এ সকল প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আইনসভার সদস্য হিসেবে এমপি সাহেবদেরকে নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মুখের কাজ (খাওয়া) নাকের মাধ্যমে করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

উপরন্তু এটি আমাদের হাইকো‍‍র্টের দেওয়া আনোয়ার হোসেন মজ্ঞু বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের লঙ্ঘন। এই মামলার রায়ে বাংলাদেশ হাইকা‍ের্ট ২০০১ সালের জোট সরকারের আমলে জেলা মন্ত্রী পদ সৃস্টি করে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। একইসাথে মন্ত্রী, হুইপ, এমপি প্রমূখের স্থানীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়াকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেন। স‍‍র্বোপরি এই সিদ্ধান্ত বিএনপির ৩১ দফা এবং নি‍‍‍‍র্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকারের পরিপন্থী। হতাশার বিষয় হলো যে, এই স্বা‍‍র্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল নি‍‍র্বিশেষে সকল সংসদ সদস্য একমত।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে মাটি ধসে নিহত ২ শ্রমিক, আহত ২