চলছে জোড়াতালির চিকিৎসা
৮০ শতাংশ রোগীর ভরসা শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল
চিকিৎসকের চরম সংকট, ঔষধের ঘাটতি আর দায়িত্ব-প্রাপ্তদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালে আসা রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাওয়ার বদলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তার উপর জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে এক প্রকার ধুকে ধুকে চলছে জেলার প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। তবে জেলার ৮০ শতাংশ মানুষের ভরসার এই ২৫০ শয্যার বিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালটি এখন যেন রোগীদের ভোগান্তির প্রতীক হিসেবে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দা, সিঁড়ি, এমনকি মেঝেতেও উপচে পড়া রোগীর ভিড়। বহি-র্বিভাগে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার জন্য। জরুরি বিভাগে কান্না, চিৎকার আর আর্তনাদের মধ্যে চলছে চিকিৎসাসেবা। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে রাখা হচ্ছে বারান্দায় বা মেঝেতে।
আরও পড়ুন: ফেনীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় অধিদপ্তর
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনুমোদিত ৭২ টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮ জন। তবে চিকিৎসকের পদ থাকলেও শূন্য পদে আছেন ৪৪ জন। জনবলের এই বিশাল ঘাটতি আর কর্মকর্তাদের একাংশের ফাঁকিবাজির কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ চিকিৎসা সেবা।
এমনকি প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও বছরের পর বছর ধরে কেউ নেই। চলছে জোড়াতালির চিকিৎসা।
আরও পড়ুন: মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, সাভারের ওসি প্রত্যাহার
বুকের ব্যথায় হাসপাতালে ভর্তি তাসলিমা জাহান। তিনি বলেন ‘আমরা জানতাম সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হয়। কিন্তু ওখানে থাকার পরিবেশ নেই। বাথরুমে ঢুকলেই বমি আসে। দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ি। একদিকে গরম অন্যদিকে রোগীর চাপ।
নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়ন থেকে মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, দুই দিন আগে মেয়েকে ভর্তি করিয়েছি। এখনো বেড পাইনি। বারান্দায় পড়ে আছি। বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে। রাতে মশার কামড় আর দুর্গন্ধে ঘুমানোর উপায় নেই। উন্নত চিকিৎসার আশায় এখানে এসে বেকায়দায় পড়েছি। সরকারি হাসপাতালে আসি খরচ কম হবে ভেবে। কিন্তু অর্ধেকের বেশি ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়।
একই অভিযোগ সদর উপজেলার শৌলপারা থেকে আসা ৪৫ বছর বয়সী রাবেয়া খাতুনের। তিনি বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, বলা হয়-ডাক্তার রাউন্ডে আছেন। এখনও ডাক্তারের দেখা পাইনি। এত ভিড় তার জন্য মেঝেতে বসে থাকতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ বারবার শহরে আসার সামর্থ্য আমাদের নেই। এখানে সেবা না পেলে আমরা কোথায় যাব। সব মিলিয়ে হয়রানি ছাড়া আর কিছুই পাইতেছি না।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, শরীয়তপুরের মানুষ আর কতকাল আধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা কি এইভাবে বছরের পর বছর অবহেলা আর অনিয়মের চাদরে ঢাকা থাকবে। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা না করলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএম) ও ডা. মিতু আক্তার বলেন, এটা হচ্ছে ১০০ বেডের হাসপাতাল। যেখানে জনবল রয়েছে ৫০ বেডের ও কম। মুলত ২৫০ বেডের প্রশাসনিক অনুমতি পেয়েছে, কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ৪শ থেকে ৫শ রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। বেড সংকট ও অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও আমাদের চিকিৎসক ও কর্মীরা সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।





