সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
বাংলাবাজার পত্রিকার রিপোর্টের জের: বড়লেখার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের আসামি গ্রেফতার
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা চাঞ্চল্যকর দুই ভাই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি সামছুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৭ জুন) রাতে বড়লেখা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি সামছুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সামছুল ইসলাম উপজেলার বিওসি কেছরীগুল (মাঠগুদাম) এলাকার মৃত আব্দুস ছবুরের ছেলে। আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান
গত ২৫ মে দেশের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায়’— “বড়লেখায় জোড়া খুনের ৫ মাস: খুনিরা প্রকাশ্যে, ভিটেমাটি ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানমূলক সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়। জনমনে তৈরি হওয়া ব্যাপক প্রতিক্রিয়া এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ চাপের মুখে ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে বাধ্য হয় পুলিশ।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বিওসি কেছরীগুল (মাঠগুদাম) গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সামছুল ইসলাম গং স্থানীয় আব্দুল কাইয়ুম ও তার ভাই জামাল উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাদের নির্মম মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল সড়ক যোগাযোগ
এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় গত ২৯ ডিসেম্বর নিহত এক ভাইয়ের স্ত্রী হালিমা বেগম বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে বড়লেখা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে যাযাবর জীবন যাপন করছিল।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “দুই ভাই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সামছুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে সোমবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় ভুক্তভোগী পরিবারের অসহায়ত্ব ও জোড়া খুনের আড়ালের সত্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখায়। গণমাধ্যমের এই সাহসী ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।





