বগুড়ায় টিসিবির চাল অনলাইনে বিতরণ, বাস্তবে বঞ্চিত ভোক্তারা

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৯ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি ইউনিয়নে টিসিবির চাল অনলাইনের মাধ্যমে বিতরণ করা হলেও বাস্তবে বঞ্চিত হয়েছেন ভোক্তারা।

গত (১৮ই মে) বিকালে চলতি মাসের টিসিবির বরাদ্দকৃত চাল থাকলেও দেওয়া হয়নি কোনো ভোক্তাকে। ভোক্তারা অন্যান্য মালামাল পেলেও পাননি চাল। অথচ মালামাল বিতরণের সময় অনলাইনে ৫ কেজি করে চাল পেয়েছেন বলে তথ্য এন্ট্রি করা হয়েছে। অপরদিকে উক্ত চাল ইউনিয়ন পরিষদের একটি ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির মোট ভোক্তা ১ হাজার ৫০ জন। উক্ত ইউনিয়নে বর্তমানে অ্যাকটিভেটেড কার্ড আছে ১ হাজার। গত শনিবার কার্ডের বিপরীতে ভোক্তাদের মাঝে চাল ছাড়া সকল পণ্য বিতরণ করা হয়। এখানে কাউকেই চাল দেওয়া হয়নি। বর্তমানে টিসিবির চলতি মে মাসের বরাদ্দকৃত অনুমোদনপত্রে দেখা যায় যে, প্রত্যেক ভোক্তা ২ লিটার ভোজ্য তেল, ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১টি গোসলের সাবান, ১টি কাপড় কাচার সাবান, আধা কেজি কাপড় কাচার পাউডার পাবেন। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, মসুর ডাল ৬০ টাকা, চিনি ৭০ টাকা ও তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, গোসলের সাবান ৪৫ টাকা, কাপড় কাচার সাবান ২৩ টাকা এবং কাপড় কাচার পাউডার ৬০ টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, সারিয়াকান্দির কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে গত (১৭ই মে) বুধবার ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। উক্ত ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ বুধন রবিদাসকে এই কক্ষ খুলতে বললে তিনি কক্ষের তালা খুলে দেন। সেখানে পাওয়া যায় ৫০ কেজি ওজনের চালের বস্তা, যা সরকারি খাদ্য গুদামের সিলমোহরযুক্ত ৪০ বস্তা চাল হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ বুধন রবিদাস জানান, এই চাল টিসিবির ডিলার তারেক রেখে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ

এদিকে সারিয়াকান্দির কুতুবপুর ইউনিয়নের টিসিবি ভোক্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমি টিসিবির পণ্য নিতে সকাল ৮টায় আসছি আর দুপুর ১টার সময় মালামাল পাই, কিন্তু ডিলার আমাকে কোনো প্রকার চাল দেয়নি এবং বলেছে কোনো চাল নাই। সে চাল বাবদ আমার কাছ থেকে ১৫০ টাকা কম নিয়েছে প্যাকেজ মূল্য থেকে।”

আরেকজন টিসিবির ভোক্তা আরমান মাহমুদ বলেন, “এবার টিসিবির মাল নিতে গেলে তারা আমাকে চাল, সাবান, কাপড় কাচার সাবান, কাপড় কাচার পাউডার—এসব কিছুই দেয়নি। আমি পেয়েছি মসুর ডাল, তেল ও চিনি। তারা এসব বাবদ আমার কাছ থেকে ৪৭০ টাকা নিয়েছে। চালের কথা জানতে চাইলে ডিলার বলে কোনো চাল আসেনি।”

অপরদিকে কুতুবপুর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার হাজী ট্রেডার্স ও শফিক ট্রেডার্সের প্রোপাইটর তারেক বলেন, “আমার টিসিবির পণ্য এখনো সবাইকে দেওয়া শেষ হয়নি। আর আমি তো অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যম ছাড়া কোনো মালামাল বিতরণ করিনি। ইউনিয়ন পরিষদে যেসব চাল আছে, ওগুলো আমারই চাল।” উক্ত ইউনিয়ন পরিষদে চাল রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে সেখানে রাখা হয়েছে।

এতে সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের টিসিবির ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, “টিসিবির মালামাল যে ডিলার দেয়, সে আমাকে কিছুই বলে না। কখনও স্বাক্ষরও নেয় না। সোজা কথা, উক্ত টিসিবির ডিলার কখন কী করে, তা আমাকে জানায় না। আমিও এ বিষয়ে কিছু জানি না।”

উক্ত কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রশাসক উপজেলা আইসিটি অফিসার ইঞ্জিনিয়ার নুর আলম বলেন, “টিসিবির চাল দেয়নি, এটা ডিলারের কাজ; এটা আমার বিষয় নয়। ইউনিয়ন পরিষদে চাল রাখা যাবে না, এটা আমি ডিলারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তারপরও সে যেহেতু চাল রেখেছে, আগামীকালের মধ্যে যদি না নিয়ে যায়, তাহলে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিলারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও চাল জব্দ ও ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ করবো।”

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, “আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্রশাসককে বিষয়টি দেখতে বলেছি। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে বা ঘটে থাকলে যথাযথ আইনগত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”