জুরাইনে জুমা শেষে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের সংঘর্ষ, তদন্ত ও কমিটি বাতিলের দাবি

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৪ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জুরাইন মুরাদপুর আউটার সার্কুলার রোড (নোয়াখালী পট্টি) জামে মসজিদে ৩ জুলাই জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটি ও এলাকার মুসল্লিদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে মুসল্লি ও এলাকাবাসী জানান, মুসল্লিদের কাউকে না জানিয়ে নোয়াখালী পট্টি জামে মসজিদ কমিটির দায়িত্বে থাকা সাত্তার, দেলোয়ার মোহাম্মদ, কবির ও কুদ্দুস গোপনে চাপ ও হুমকি দিয়ে মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা রবিউল ইসলামকে বাদ দিয়ে দেন। এছাড়া ৩ জুলাই জুমার নামাজে খতিব রবিউলকে ইমামতি করতে দেয়নি উক্ত কমিটি।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

জুমার নামাজের পর উক্ত কমিটির কাছে খতিব রবিউলকে ইমামতি করতে না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে এলাকার যুবক মুসল্লি রাশেদ ও শামীমকে কমিটির নেতা সাত্তার, কুদ্দুস, দেলোয়ার মোহাম্মদ ও কবির মিলে মসজিদের ভেতরে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে মসজিদের ভেতরে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মুসল্লি ও এলাকাবাসী মসজিদ কমিটি বাতিল এবং খতিব ইমাম রবিউলকে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

আরও পড়ুন: ইলিশের মৌসুমেও ফাঁকা দেশের অন্যতম বৃহৎ চাঁদপুরের মাছঘাট

এলাকাবাসী জানান, নোয়াখালী পট্টি জামে মসজিদের ইমাম মুফতি রবিউল ইসলাম একজন আল্লাহভীরু, পরহেজগার ও দ্বীনদার ইমাম ছিলেন। প্রায় সাত বছর তিনি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মসজিদ ভবনের তিনতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। এছাড়া মুরাদপুর এলাকা মাদকসেবী ও ছিঁচকে চোরদের উৎপাত থেকে অনেকটাই স্বস্তি পায় বলে এলাকাবাসীর দাবি।

অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালী পট্টি জামে মসজিদের কমিটির দায়িত্বে থাকা সাত্তার, দেলোয়ার মোহাম্মদ, কুদ্দুস ও কবিরের বিরুদ্ধে মসজিদের অনুদানের লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপ এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এ কারণে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা মুরাদপুর নোয়াখালী পট্টি জামে মসজিদের বর্তমান কমিটি বাতিল করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।