দ্য স্টোরি টেলার অব ক্যাম্পাস
মানুষের চলার পথ কখনো মসৃণ হয় না। বাধা আসে, আসে প্রতিকূলতা। কিন্তু কেউ কেউ থাকেন, যারা এই সব প্রতিকূলতাকে সাহসিকতার সঙ্গে অতিক্রম করে নিজের অবস্থান নির্মাণ করেন। তেমনই একজন সানজিদা জান্নাত পিংকি। স্পষ্টভাষী, আত্মবিশ্বাসী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে যিনি এক নামে পরিচিত।
ঢাকার পাশের জনপদ ধামরাইয়ের কন্যা পিংকি বেড়ে উঠেছেন প্রান্তিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে। বাবা-মায়ের চাকরির সুবাদে ভিন্ন ভিন্ন জেলায় বেড়ে ওঠা, মানুষ দেখার সুযোগ ও জীবন ঘেঁটে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে গড়ে তুলেছে বহুমাত্রিকতায়। সেই ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদে কলম হাতে তুলে নেন। লেখাকে বেছে নিয়েছেন তাঁর প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে। নানা ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার উপস্থিতি এবং লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরেন সামাজিক সচেতনতার কণ্ঠ হিসেবে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত প্রায় ২৫ হাজার পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭
আইনের প্রতি গভীর আগ্রহ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকে তিনি ভর্তি হন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। তবে আইনশাস্ত্রের সীমা তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। চিন্তার গভীরতা আর লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা টেনে আনে তাঁকে সাংবাদিকতায়। যুক্ত হন দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সংগঠন গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস)-এর সঙ্গে। এখানেই তাঁর প্রতিভার ফুল ফোটে, পূর্ণতা পায়—নির্মোহ অনুসন্ধান, সামাজিক সংবেদনশীলতা আর সৃজনশীল লেখার ধারায়। নিজের লেখনী ও নেতৃত্বের গুণে হয়ে ওঠেন ব্যতিক্রমী মুখ। ৩২ একর ক্যাম্পাসের প্রতিটি আনাচে-কানাচের গল্প উঠে আসে তাঁর লেখনীতে। হয়ে ওঠেন 'দ্য স্টোরিটেলার অব ক্যাম্পাস'। যার কলমে উঠে এসেছে একাধারে শতাধিক ফিচার; সংখ্যার বিচারে যা অতীতের সব রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
লেখার জগতে সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি সংগঠনের নেতৃত্বেও তিনি অনন্য। সর্বশেষ গবিসাসের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন পিংকি। আর তাঁর এই পদারোহণ সৃষ্টি করেছে এক অনন্য নজির—গবিসাসের ১ যুগের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী সভাপতি। তাঁর নেতৃত্ব একদিকে গঠনমূলক, অন্যদিকে অনুপ্রেরণামূলক—বিশেষ করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নারীদের জন্য এক সাহসিকতার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন তিনি। পিংকি পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন আজকের পত্রিকার রিডার্স ফোরাম 'পাঠকবন্ধু'-র সঙ্গেও। সেখানে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসাডর হিসেবে, তবে তাঁর চিরাচরিত গুণাবলির কারণে সেখানেও তিনি তাঁর কাজের ছাপ ফেলেন এবং নির্বাচিত হন বর্ষসেরা সংগঠক হিসেবে।
আরও পড়ুন: ঢাবিতে প্রথম সমন্বিত বৃক্ষ শুমারির ফল প্রকাশ
পিংকি মনে করেন, “ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা এক ধরনের পাওয়ার হাউস। এটি শিখিয়ে দেয় নেতৃত্ব, দায়িত্ব, আর সংগ্রামে একাকী পথ চলার দীক্ষা। সত্যকে গ্রহণ করতে পারলে, ‘প্রতিবন্ধকতা? থোড়াই কেয়ার’ বলার সাহস আপনাআপনিই চলে আসে।”
সাংবাদিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতিহাস, মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে তাঁর গভীর অনুরাগ। ইতিহাসের অলিগলিতে ঘুরে দেখতে চান তিনি পৃথিবীর অজানা গল্পগুলো। পিংকির বিশ্বাস, মানুষ-প্রকৃতি-প্রাণ—এই ত্রয়ীর সহাবস্থানেই নিহিত জীবনের গভীরতর অর্থ।
পিংকি কেবল একজন সংগঠক বা সাংবাদিকই নন, বরং তাঁর ভাবনায় ঘুরে বেড়ায় এক মানবিক, বৈষম্যহীন পৃথিবীর স্বপ্ন—যেখানে ‘মানুষ’ পরিচয়ই হবে একমাত্র পরিচয়। যেখানে থাকবে না কোনো প্রাচীর, বিভাজন কিংবা ক্ষমতার অহংকার—থাকবে কেবল মানবিকতা, সহানুভূতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।





