পটুয়াখালীর সাপের খামার: কোটি টাকার বিষে নীতিগত জট
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রধান উপাদান সাপের বিষ বা ভেনম। তবে দেশে উৎপাদিত এই মূল্যবান ভেনম নীতিগত জটিলতা ও বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে সম্ভাবনাময় একটি খাত বিকাশের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাসের গড়ে তোলা ‘বাংলাদেশ স্নেক ভেনম’ খামারটি সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বৈধভাবে বিষধর সাপ পালন ও ভেনম সংগ্রহের অনুমোদন মিলেছে। তবে উৎপাদিত ভেনম বিক্রি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের জন্য এখনো কোনো কার্যকর নীতিমালা না থাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: জনগণই দেশের মালিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে আপসহীন সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, প্রবাসজীবন শেষে ২০০০ সালে দেশে ফিরে শখের বশে সাপ পালন শুরু করেন তিনি। পরে লোকালয় থেকে উদ্ধার হওয়া বিষধর ও আহত সাপ সংরক্ষণ এবং মানুষকে সচেতন করার কাজও শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগই বাণিজ্যিক খামারে রূপ নেয়।
বর্তমানে খামারটিতে কিং কোবরা, রাসেলস ভাইপার, গোখরা, পাইথনসহ বিভিন্ন প্রজাতির আড়াই শতাধিক সাপ রয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসব সাপ থেকে ভেনম সংগ্রহ করা হয়। এই ভেনম অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর
খামারটির উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস বলেন, “সরকারি নিবন্ধন পেয়েছি। কিন্তু ভেনম বিক্রি বা সরবরাহের সুযোগ না থাকায় উৎপাদিত ভেনম সংরক্ষণ করেই রাখতে হচ্ছে। একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা হলে দেশেই অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের পথ সহজ হবে।”
তিনি বলেন, খামার পরিচালনা, সাপের খাদ্য, পরিচর্যা ও নিরাপত্তায় নিয়মিত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদিত ভেনম থেকে কোনো আয় না হওয়ায় উদ্যোগটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনমের চাহিদা রয়েছে। অথচ এর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত ভেনমের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এ অবস্থায় দেশে উৎপাদিত ভেনম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, গবেষণার প্রসার ঘটবে এবং নতুন একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের বিকাশ ঘটতে পারে।
তবে এ জন্য প্রয়োজন ভেনম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন ও গবেষণায় ব্যবহারের বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর সহযোগিতা





