আশুলিয়ায় সরকারি পুকুরের মাটি রাতে ট্রাকে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫২ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের সুবন্দি এলাকায় সরকারি অর্থায়নে পুকুর পুনঃখননের মাটি রাতে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাতে পুকুর থেকে মাটি তুলে ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কয়েকটি ট্রাক আটকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন তাঁরা।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরী ও উপজেলা এলাকার ইজারাবিহীন খাস পুকুর ও জলাশয়সমূহের সংস্কার, উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় মোবাইল কোর্টে বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ এমপির

এই প্রকল্পের আওতায় ‘CCTF/DHK/ASH/U/W#05 ধামসোনা ইউনিয়নের বরকতুল্লাহ খান বাড়ী পুকুর পুনঃখনন’ প্যাকেজে পুকুরটির পুনঃখননের কাজ চলছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা জেলা প্রশাসন, ঢাকা। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৮ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮০ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজী শরীয়তুল্লাহ ট্রেডার্স, বিসিক মাদারীপুর। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পূবালী ব্যাংকের সেলফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন

প্রকল্পের নথিতে বাস্তবায়নকাল মে ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৭ এবং কাজের সময়সীমা ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ‘৩১/০৬/২০২৭’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জুন মাসে ৩১ দিন না থাকায় শেষ তারিখটি নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মূল নথি থেকে সঠিক সময়সীমা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, ‘রাতে ট্রাকে করে মাটি নিতে দেখেছি। কোথায় নেওয়া হয়, তা জানি না।’

আরেক বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘শুনেছি সরকারি অর্থে পুকুর কাটা হচ্ছে। রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যায়।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শাহীনূর ইসলাম বলেন, রাতে কয়েকটি ট্রাক আটকে রাখার পর তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক্রমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে মাটি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমি রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছি।’

স্থানীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন, ‘রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার সচেতন মানুষ ট্রাক আটকে জানতে চেয়েছে, মাটি কোথায় যাচ্ছে। মাটি কোথায় যাচ্ছে, তা জিজ্ঞাসা করার অধিকার তাদের আছে। আমিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতে মাটি নিয়ে যাওয়ার সত্যতা পেয়েছি।’

মেসার্স হাজী শরীয়তুল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘মাটি বেশি হওয়ায় বিক্রি করছি। ডিসি অফিসে প্রতিদিন চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিচ্ছি।’ সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউএনও স্যার জানেন।’

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখি কী হয়েছে। মাটি যদি বেশি থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা বলব এবং নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে বিক্রি করতে পারবে। এর আগে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’