দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে নদীগর্ভে বিলীনের ঝুঁকিতে ৫ শতাধিক বসতঘর

Shahrier Islam Pallab
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:০১ পূর্বাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় জনপদে। এলাকাবাসীর দাবি, পাগলা থানার বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮ নম্বর টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ সীমানা টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বালু উত্তোলন চলায় নদীভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী অন্তত ৫ শতাধিক পরিবারের বসতঘর, শত শত একর আবাদি জমি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও একটি সেতু হুমকির মুখে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গত ৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের অনুলিপি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বাচ্চু, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়ক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসন, পাগলা থানা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিকলীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদীতীরের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় নদীভাঙনে শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, শুধু বসতভিটাই নয়, নদীতীরবর্তী শত শত একর উর্বর কৃষিজমিও হুমকির মুখে রয়েছে। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে নদীভাঙন দেখা দিলে বহু কৃষক জমি হারিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বেন। ফলে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়া-ধামরাইয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা

এদিকে ময়মনসিংহ থেকে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র তীরঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নদীর পাড় ঘেঁষে চলা এ সড়কের নিচ থেকে বালু সরে যাওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

শুধু সড়ক নয়, ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে আবেদনে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ অবকাঠামোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত প্রকৌশলগত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আবেদনকারীরা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ জনপদে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিতে পারে এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে বহন করতে হবে।