সাজেকে ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ, সেনাবাহিনী-পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৯ অপরাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

সাজেকে বেড়াতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা। তাঁদের একজন ঢাকা থেকে যাওয়া আবুল কাশেম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার সাজেকে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় আন্দোলনের খবর পান। বৃহস্পতিবার তাঁদের সাজেক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় সাবেক এমপি এএনএম ইউছুফের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

আবুল কাশেম বলেন, তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন তাঁরা। এখন গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেখতে হবে। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের। এ পরিস্থিতিতে বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক অপু বলেন, আনন্দ করতে সাজেকে গেলেও সেখানে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় তাঁদের। বুধবার সাজেকে পৌঁছানোর পর আন্দোলনের কারণে ঠিকমতো ঘোরাঘুরি করতে পারেননি। সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের খবর শুনে নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন।

আরও পড়ুন: বোরকা পরে হামলা করতে গিয়ে নিজেই খুন

ফেরার পথে দুই জায়গায় আটকে পড়ার কথাও জানান অপু। তিনি বলেন, তাঁদের গাড়িবহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সড়কের দুই পাশে সরিয়ে দিয়ে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো দ্রুত ওই এলাকা পার করে দেন।

যেভাবে শুরু হয় পরিস্থিতির অবনতি

সেনাবাহিনীর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।

আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিবৃতি অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়।

সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এরপর পর্যটকবাহী যান চলাচল পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গুলিবর্ষণ ও পাল্টা গুলি

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল আত্মরক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলি চালায়। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বপরিকল্পিত অবরোধের অভিযোগ

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সেনাবাহিনীর মতে, এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অবরোধে সম্পৃক্ত করার অভিযোগকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।