বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের কখনও ডাকে না: ওয়েব সভাপতি নাসরিন আওয়াল
নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পায় না। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে গেলে কথাই বলতে পারে না। এমনকি কোনো তথ্যও পায় না। বলা হয় ওয়েবসাইটে তথ্য আছে। কিন্ত তারা (বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তারা) বুঝে না, সকল নারী সমান শিক্ষিত নয়। এসব অভিযোগ করেছেন নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওমেন এন্ট্রাপ্রিনিউয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এর সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর কাঠালবাবাগানে অবস্থিত অ্যাংকর টাওয়ারে নিজস্ব অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্যাংক ঋণ পেতে নারীদের চ্যালেঞ্জ ও অভিযোগসমূহ তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি
সংগঠনটির সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আওয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের কখনও ডাকেও না। নীতিমালা দিয়ে বসে থাকে। নারীদের নিয়ে কথা বলে না। বুঝিয়ে দেয় না। আমাদের সঙ্গেও কথা বলে না। ব্যাংকাররা নারীদের ক্ষুদ্র উদ্যোগে ঋণ দেয় না। কাগজে কি থাকে বুঝিয়ে দেয় না। তারা শুধু বড়দের ঋণ দেয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। নারী উদ্যোক্তারা সহায়তা পায় না।
তিনি বলেন, শহুরে নারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও নারীরা কোনো উদ্যোগ নিলে তাতে ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা পায় না। বাধ্য হয়েই তারা উচ্চ সুদে এনজি ‘র উণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করে এবং অধিকাংশই ঋণের জালে পড়ে ব্যর্থ হয়। নারীদের নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত হবার এমন প্রচেষ্টা ও পতনের করুণ গল্প দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: তিন যুগ পূর্তি উদযাপন করলো সংশপ্তক
সংগঠনটির সদস্য এবং ডটস ক্র্যাফট্স এর সিইও কাজী ইসমত আরা বীণা অভিযোগ করে বলেন, আমি একাধিক ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ব্যবসা বাঁচাতে ঋণ সহায়তা চেয়ে পাইনি।
বীণা বলেন, আমরা বিশেষ কোটা চাই। ঋণ আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া চাই। একটি সহায়ক কাঠামো চাই যে, কোন ডেস্কে গেলে কি কাজে সহায়তা পাবো। ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় এ ব্যাপারে নির্দেশনা থাকা দরকার।
ওয়েব ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট তাজিমা এইচ মঝুমদার বলেন, নারীরা কাজ পায় না। চাকরির বাজার দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে। নারীদের অনেকে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। কিন্ত তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা পায় না। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নীতি নির্ধারকমহল বিবেচনায় নিতে হবে।
ওয়েব কার্যনির্বাহি কমিটির সদস্য ও কারু প্রতিষ্ঠাতা জান্নাতুল ফিরদাউস তার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। তবে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। এক ব্যাংকে না হলে আরেক ব্যাংকে যেতে হবে। এক শাখায় না হলে অন্য শাখায় দৌড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে ঋণ পাওয়া নারীর অধিকার, কারো দয়া নয়। সঠিক জায়গায় পৌছাতে হবে। এজন্য দৃঢ় মনোবল রাখতে হবে। নিজের কাজ ও প্রতিষ্ঠান এবং নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।
রোজেলি কালেকশনস্ এর প্রতিষ্ঠাতা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, নারী উদ্যেক্তাদের সংকোচের সীমা অতিক্রম করে বাইরে আসতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ দিতে একটি তহবিল ব্যাংকগুলোকে দেয়। সেই তহবিল থেকে ঋণ পেতে জোর চেষ্টাও করে যেতে হবে নারী উদ্যোক্তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে বাজেটে প্রস্তাবিত উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল এবং খাতভিত্তিক উদ্যোক্তা প্রশিক্ষন কার্যক্রম কর্মসূচির প্রশংসা করা হয়। নাসরিন আওয়াল বলেন, বাজেটে বৈষম্যহীন এবং অংশগ্রহনমূলক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে যুবা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠিীর অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এটি তরুণ নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাজেটে অন্তর্ভূক্তির লক্ষ্যে তিনি নারী উদ্যোক্তাদের পাঁচ দফা দাবী তুলে ধরেন। এক. ব্যাংক ঋণ ও এসএসই অর্থায়নে নারীদের জন্য পৃথক কোটা ও সহজ জামানত নীতি নিশ্চিত করা; দুই. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের বাজার সংযোগ, ই-কমার্স সক্ষমতা তৈরি এবং পণ্য ব্রান্ডিংয়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসুচি চালু করা; প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে রপ্তানি স্কষমতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারন করা; সরকারি ক্রয়ে নারী উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কর পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা ও ব্যবসা নিবন্ধণ প্রক্রিয়া সহজতর করা।





