উত্তরার বার থেকে কীভাবে মিরপুর গেলেন ‘অচেতন’ তরুণী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৭ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে বসা এক তরুণীকে ‘নিথর’ অবস্থায় দেখা যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই তরুণী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বড় বোন।

বুধবার রাতের ওই ঘটনার পর মোটরসাইকেলটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তরুণীকে অস্বাভাবিকভাবে বসে থাকতে দেখা যায়। এতে তিনি সুস্থ আছেন কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: সংস্কার শেষে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা হয়। ২৬ বছর বয়সী তরুণী জানান, তিনি বর্তমানে ভালো আছেন। তবে বিস্তারিত কথা বলার জন্য দুদিন পর দেখা করবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তার বড় বোন ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে।

তরুণীর বোন ও দুলাভাই জানান, বুধবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে রাগ করে টঙ্গীর বাসা থেকে বেরিয়ে যান তরুণী। পারিবারিক বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে তিনি বাসা ছাড়েন বলে দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন: তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বুধবার রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিন আরোহীকে দেখতে পান মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটিকে অনুসরণ করেন।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে ঝুলে ছিল। এ দৃশ্য দেখে তরুণীটি মৃত নাকি অচেতন, তা নিয়ে তার সন্দেহ হয়।

পরে মোটরসাইকেলটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

তরুণীর দুলাভাই বলেন, ‘মিতু (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করে নাই। সেদিন আমরা স্বামী-বউ ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে ও রাগ করে চলে যায়। তারপর হয়তো উত্তরার বারে গিয়ে ড্রিংকস করে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো বাসায় দিয়ে যায়।’

মোটরসাইকেলচালক আলম তরুণীর স্বামী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’

তরুণীর বোন জানান, তার কিছুদিন আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর তাকে নিজের কাছে এনে রেখেছিলেন। বুধবার পারিবারিক ঝামেলার পর তরুণী বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

তিনি বলেন, ‘ওর দুলাভাই আমার গায়ে হাত তুলেছিল। এটা ও মানতে পারেনি। এরপর বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম আর তার বন্ধু ওকে নিয়ে টঙ্গীতে আমার বাসায় আসার চেষ্টা করে। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর চলে যায়। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় রেখে আমাকে ফোন দেয়।’

ওই তরুণীর এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা ও একাধিক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন।

তার দাবি, তরুণী তাকে ফাঁদে ফেলে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি হানিট্র্যাপের মতো ঘটনার সঙ্গেও তিনি জড়িত বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তরুণীকে মিরপুরে রেখে যাওয়া দুই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোটরসাইকেলটির চালক আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তরুণীর বোন বলেন, ‘আলম এখন পারিবারিকভাবে ঝামেলায় আছে। ওর সংসার আছে, মেয়ে আছে। আমার বোনকে পৌঁছে দিতে গিয়ে সে বিপদে পড়েছে।’

এদিকে তরুণী নিজে বর্তমানে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া উদ্বেগের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।