ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, আহত হল সংসদের ভিপি - জিএস

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসান আহত হয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) মধ্যরাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের হল অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে ৬ দিনব্যাপী ভর্তি মেলা শুরু

জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগের পর সন্ধ্যার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও অমর একুশে হল সংসদের কয়েকজন নেতা ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগের দাবি জানান। তবে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পরও প্রাধ্যক্ষ পদত্যাগে রাজি হননি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন হলের ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ফজলুল হক মুসলিম হলের হল অফিসের সামনে জড়ো হন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। উভয় পক্ষই প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

আরও পড়ুন: চাকসু পরাজিত ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী শাফায়াতের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীকে মারধর

তবে ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির বিভিন্ন হল থেকে নেতাকর্মীদের এনে সেখানে জমায়েত করে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, ছাত্রদল অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে রক্ষার অবস্থান নিয়েছে।

এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডা হাতাহাতিতে গড়ায়। এতে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসান আহত হন।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহীম বলেন, ঘটনার শুরুতে হলের শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। তার দাবি, ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে প্রাধ্যক্ষ কীভাবে তাকে হেনস্তা করেছেন, তা স্পষ্ট হতো। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টার পর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ফুটেজ দেখানো হয়নি।

ইব্রাহীমের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিষয়টি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পারস্পরিক বিরোধে রূপ নেয়। উভয় পক্ষই অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসায় মূল অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া আড়ালে পড়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ঘটনার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রশিবির ছাত্রদলের বিরুদ্ধে প্রাধ্যক্ষকে রক্ষার অভিযোগ তোলে। বিপরীতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগের বিচার না চেয়ে জমায়েত করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ করা হয়।

পরে রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষকে হল অফিস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ এবং এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে পৃথক বক্তব্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।