রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৪ জন আজীবন, হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ৪২

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ | আপডেট: ১২:৩৩ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবিঃ সংগৃহীত
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনের ছাত্রত্ব আজীবনের জন্য বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। দুই শিক্ষার্থীকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারসহ মোট ৪৮ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: কুবিতে এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রামের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

তাদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করার দায়ে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুর রাজ্জাক।

আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন- নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রুয়েটের সভাপতি ও পুরকৌশল বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী ফাহমিদ লতিফ লিয়ন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সিএসই বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সৌমিক সাহা, যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী শাশ্বত সাহা সাগর এবং পুরকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী মৃন্ময় কান্তি বিশ্বাস।

আরও পড়ুন: স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে ঢাবি

এ ছাড়াও রুয়েটের প্রকৌশল শাখার সহকারী প্রকৌশলী নাঈম রহমান নিবিড়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ডাটা প্রসেসর মো. মহিদুল ইসলাম, শিক্ষা শাখার সাব-এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার এ.কে.এম. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রুয়েটের সংশ্লিষ্ট ফোরামে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত বছরের ১৯ আগস্ট এ অভিযানের প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হলের বিভিন্ন কক্ষে অস্ত্র ও মাদকসহ নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি রাখার দায়ে আপাতত আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অপরদিকে, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় দুই শিক্ষার্থীকে চার সেমিস্টার বা দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ও ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রুয়েট প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। এসব অভিযোগ যাচাই করে দেখা যায়, অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে অর্ডিন্যান্স রয়েছে তার ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য ৪ শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুইজনকে চার সেমিস্টার বা দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর বাইরে গত বছরের ১৯ আগস্ট অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ৪২ জনকে আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।