জামায়াত আমিরের নারীদের কটুক্তির প্রতিবাদে চবি শিক্ষার্থীদের ঝাড়ু মিছিল

Sanchoy Biswas
মো. সাবিত বিন নাছিম, চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৪ অপরাহ্ন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

৩১ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আধুনিকতার অজুহাতে নারীদের ঘরের বাইরে কর্মজীবনে যুক্ত করা শোষণ ও নৈতিক অবক্ষয়ের শামিল, যা তিনি পরোক্ষভাবে বেশ্যাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করেন। মন্তব্যটি নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর বলে এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

পহেলা ফেব্রুয়ারি রোববার রাত আনুমানিক ৯টায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা নারীবিদ্বেষবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে কাটা পাহাড় সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশ শেষ করেন। সেখানে তারা বিতর্কিত পোস্টটির তীব্র নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শাস্তির দাবি তোলেন।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির বিষয় পছন্দক্রম আবেদন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির নারী শিক্ষার্থীরা জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে স্পষ্টভাবে নারীবিদ্বেষী উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মের অপব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, সমালোচনা শুরু হওয়ার পর ‘অ্যাকাউন্ট হ্যাক’ হওয়ার অজুহাতে দায় এড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, এসব ঘটনার পরও বর্তমান উপদেষ্টারা কেন এখনো কোনো ধরনের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং সংসদে যাওয়ার ভূমিকা রাখতে পারেন।

আরও পড়ুন: জবি ইউট্যাবের নতুন সভাপতি নাসির উদ্দিন, সম্পাদক নাছির আহমাদ

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নির্বাচনী মনোনয়ন বাতিল করা উচিত এবং ধর্মের নামে নারীদের হেয় করার রাজনীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী নারী ও মায়েরা অর্থনীতি ও সমাজকে সচল রাখছেন। সেখানে তাদের নিয়ে কটূক্তি করা শুধু অনৈতিক নয়, চরম অমানবিক। তিনি আরও বলেন, ইসলামে নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদার কথা বলা হলেও সেই ধর্মের নাম ব্যবহার করেই নারীদের অপমান করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বৈপরীত্যপূর্ণ এবং ধর্ম অবমাননার শামিল।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ৫ আগস্টের পর মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, এই ধরনের বক্তব্য সেই স্বপ্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী নিজেদের ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে তারা নারীবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে এবং কোনো দায় নিচ্ছে না। তিনি জনগণের সামনে এই রাজনীতির প্রকৃত চেহারা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

এছাড়াও উপস্থিত অনেকেই বক্তব্য রাখেন এবং সমাবেশ সমাপ্তির আগে শিক্ষার্থীরা জানান, নারীদের মর্যাদাহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একত্রিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তারা স্পষ্ট করেন, নারীবিদ্বেষকে পুঁজি করে কিংবা ধর্মের নাম ব্যবহার করে যে কোনো ধরনের রাজনীতি চালানোর চেষ্টা বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না।