বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে প্রবাসী ভোটে নগণ্য সাড়া: বগুড়ায় ২৩ ও শেরপুরে মাত্র ৫ টি

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৯ অপরাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ না হওয়ায় নির্বাচন ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা, বিশেষ করে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিপুল সংখ্যক নিবন্ধনের বিপরীতে অতি সামান্য ভোট প্রাপ্তি এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট জমা পড়ার হার অত্যন্ত কম হওয়ায় বিষয়টি আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে প্রবাসীদের জন্য প্রবর্তিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় মোট ৭ হাজার ৩০৯ জন ভোটার নিবন্ধন করলেও বাস্তবে ভোট প্রদানের হার অত্যন্ত হতাশাজনক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিপুল নিবন্ধনের বিপরীতে মাত্র ২৮টি ভোট প্রদান করা হয়েছে, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের তুলনায় নগণ্য এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ন্যূনতম মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

আরও পড়ুন: ৬ এপ্রিলের বৈঠকে নারী সংরক্ষিত আসনের তফসিলের সিদ্ধান্ত : রহমানেল মাছউদ

বগুড়া-৬ আসনের ক্ষেত্রে ১ হাজার ২৮১ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হলেও ভোট দিয়েছেন মাত্র ২৩ জন। আরও উদ্বেগজনক হলো, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে মাত্র ৩টি ব্যালট, যা প্রেরিত ও প্রদত্ত ভোটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি নির্দেশ করে। একইভাবে দেশের অভ্যন্তরে ২ হাজার ৪৫৫ জনকে ব্যালট পাঠানো হলেও ভোট দিয়েছেন ৮৪৪ জন এবং জমা পড়েছে ৬১৬টি ব্যালট—এ ক্ষেত্রেও প্রেরণ, প্রদান ও গ্রহণের মধ্যে অসামঞ্জস্য স্পষ্ট।

অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে ৩৮৩ জন প্রবাসী ভোটারের মধ্যে মাত্র ৫ জন ভোট প্রদান করেছেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে মাত্র ১টি ব্যালট। দেশের অভ্যন্তরে ৩ হাজার ১৯০ জনকে ব্যালট পাঠানো হলেও ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৪৯৫ জন এবং জমা পড়েছে ১ হাজার ২৪৫টি ব্যালট, যা তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হলেও এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

আরও পড়ুন: ঘিরে কড়া নজরদারি: মাঠে ২০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সে বিবেচনায় প্রেরিত ব্যালট, প্রদত্ত ভোট এবং প্রাপ্ত ব্যালটের মধ্যে এ ধরনের পার্থক্য নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার যথাযথ অনুসরণের বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে ডাকযোগে ব্যালট প্রেরণ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে পূর্ব থেকেই যে আশঙ্কা ছিল, বর্তমান পরিসংখ্যান সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ থেকে এই দুই আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং  ৯ এপ্রিল সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি। তবে এত কম সংখ্যক ব্যালট জমা পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—নতুন চালু হওয়া আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা আদৌ কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য কি না।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্রে অংশগ্রহণের ঘাটতি এবং ব্যালট ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির আইনি বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে পুরো প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় এনে কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণ করা। অন্যথায় প্রবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিত করার যে সাংবিধানিক অঙ্গীকার, তা বাস্তবে প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে।