মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাঁর জন্মভূমি এবং শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুপুরের পর থেকেই মাশহাদ শহরের প্রধান সড়ক ও গলিপথে সাধারণ মানুষের ঢল নামে। একটি সুসজ্জিত ট্রাকে করে প্রয়াত নেতার কফিনটি ধীরগতিতে ইমাম রেজা মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ শোক প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: চীনের জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২৮
কালো পোশাক পরিহিত শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষজন ইরানের জাতীয় পতাকা, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত লাল রঙের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, এসব লাল পতাকা ও প্ল্যাকার্ড প্রতিশোধের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণেই তাঁর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: মার্কিন হামলায় ইরানের ৮ সেনা নিহত
এদিকে, দাফনের দিন পারস্য উপসাগর ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে লাখো মানুষ মাশহাদে সমবেত হন। ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর দাফনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় শোকানুষ্ঠান।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর নাতনি, মেয়ে, জামাতা এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেলও নিহত হন। তাঁদেরও একই দিনে দাফন করা হয়। এছাড়া হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।





