ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা: যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা সৌদির
বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমননীতি প্রয়োগকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের ভূমি কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না তারা।
সৌদি সরকার ও সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সৌদি আরব তেহরানকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তারা যুক্ত হবে না। একইসঙ্গে সৌদির ভূমি ও আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
সরকার ঘনিষ্ঠ অপর একটি সূত্রও জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে সৌদি আরবও অন্যতম।
এর আগে বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ইরানের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
এই হুমকির প্রেক্ষিতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর পর আল-উদেইদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল ইরান। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





