কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ‘হাতের নাগালে’: আরাঘচি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:১২ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা ‘হাতের নাগালে’। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনার আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আল-জাজিরার

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি বলেন, একটি “ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন চুক্তি” সম্ভব, তবে সেটি নির্ভর করছে কূটনৈতিক পথকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকির প্রেক্ষিতেই দেওয়া বক্তব্য।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের নির্দেশ, আটকানো হবে ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজ

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আরও বলেন, তেহরান “কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না” — এ অবস্থান স্পষ্ট। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করার অধিকার ইরানের জনগণের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওমান জানিয়েছে, তারা চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে।

আরও পড়ুন: ইরান: ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা

এদিকে ওয়াশিংটনে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানই তার পছন্দ, তবে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা অচিরেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার পর তেহরানকে সতর্ক করা হয়েছিল যেন তারা অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠন না করে। তবে তার অভিযোগ, ইরান আবারও সেই পথে হাঁটছে।

আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরাঘচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

সাম্প্রতিক আলোচনার পর ট্রাম্প ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে একটি “অর্থবহ চুক্তি” করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ন্যাটো ঘাঁটিতে নোঙর করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অপরদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে এবং অঞ্চলটিকে “দুর্ভেদ্য দুর্গ” হিসেবে গড়ে তোলার দাবি করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, ইরানের জনগণের মধ্যে একদিকে যুদ্ধের আশঙ্কা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের আশা—দুই ধরনের অনুভূতি কাজ করছে। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষের কারণে গত ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভও হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে, ডলারের সংকট তৈরি হওয়ার ফলে ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে একটি বড় ব্যাংকের ধসও বিক্ষোভের আগে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।