দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, ইরান-ইসরায়েলের সম্মতি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৫ পূর্বাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ইরান। দেশটির ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়।

একইসঙ্গে ইসরায়েলও সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

নির্ধারিত সামরিক সময়সীমা শেষ হওয়ার অল্প সময় আগে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসও তা নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির পরও ইরানে ইসরায়েলের নতুন হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদন রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। মোজতবা খামেনি এই প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিয়েছেন বলে ইরানি সূত্র দাবি করেছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে। এই শর্ত পূরণ হলেই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

এই সমঝোতার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান। শাহবাজ শরিফ-এর বিশেষ উদ্যোগে দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে রাজি হয়। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং ইরানের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। যদিও এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, চলমান উদ্যোগগুলো ইতিবাচক অগ্রগতি দেখাচ্ছে এবং একটি স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকেও পাকিস্তানের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।