টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:২২ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৭ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী দফায় দফায় হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি প্রযুক্তির যুদ্ধসরঞ্জাম সৌদি-কাতারের হাতে, দাবি হারেৎজের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সর্বশেষ এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে আজ কোনো ভূমিকম্প হয়নি, পুরোনো তথ্য প্রকাশে বিভ্রান্তি

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই এলাকায় আগের দিনও মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেশম দ্বীপেও হামলার তথ্য জানিয়েছে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য তেহরানকে দায়ী করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন,"ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমরা আর ধৈর্য ধরতে পারব না। আমরা যে কাজ শুরু করেছি, প্রয়োজন হলে তা সামরিকভাবেই শেষ করতে বাধ্য হব।"

এর আগে শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার 'কিকু' হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি এবং বহন করা অপরিশোধিত তেলেরও ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকম জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল এবং আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটি বৃহস্পতিবার কাতারের আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করে। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

সূত্র: আল জাজিরা