আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৮ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে категорically প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইউএই দাবি করে, ইরান থেকে দেশটির দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেয়।

আরও পড়ুন: কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, তেহরান ইউএইর এই অভিযোগ ‘সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান’ করছে। এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা ব্যাহত করছে এবং দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ থেকে বিরত থাকা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এমনিতেই জটিল হয়ে আছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ফের আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বাঘাই আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতির সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এগুলো আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরির প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করে এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়াতে পারে।

ইউএইর অভিযোগ

এর আগে মঙ্গলবার ইউএইর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউএইর দিকে ছোড়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং দ্বিতীয়টি জলসীমার ভেতরে সাগরে পড়ে।

পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে ইউএই জানায়, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ইরান থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং সেগুলো সাগরে পড়ে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবার রাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে ইউএই।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটির বাসিন্দাদের মোবাইলে ‘সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি’ সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। জুনে একটি ভুল সতর্কবার্তা এবং জুলাইয়ে ইউএইর ভূখণ্ডে প্রবেশ না করা একটি হামলার সতর্কতার পর এটি ছিল দেশটির প্রথম এ ধরনের সতর্কবার্তা।

গত কয়েক সপ্তাহে ইউএইর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসির (ADNOC) ট্যাংকারগুলোও বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি

এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। পারস্য উপসাগর থেকে ইউএইর বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর আন্তর্জাতিক জলপথে যেতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি ব্যবহার করতে হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউএই ইরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। ইরান দেশটির দিকে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অঞ্চলটির অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।

জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) কার্যকর হওয়ার পর ইউএইতে আর কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।