শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবেন যেসব খাবার
তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই সর্দি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা গলা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতল আবহাওয়ায় শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুষম খাবারও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো একটি খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সব ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে না। তবে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উপকারী ব্যাকটেরিয়াসমৃদ্ধ কিছু খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে। শীতের সময়ে খাদ্যতালিকায় এমন কয়েকটি খাবার রাখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: র্যাশ ছাড়াই টানা চুলকানি? যে ৪ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ
লেবুজাতীয় ফল
কমলা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো সাইট্রাস ফলে ভিটামিন সি থাকে। শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাবারে কমলা বা জাম্বুরা যোগ করা কিংবা পানীয়তে লেবু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি ফল খাওয়াই সাধারণত রসের চেয়ে বেশি উপকারী, কারণ এতে খাদ্যআঁশও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: আজ ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে, কীভাবে শুরু হলো এই দিবস?
রসুন
রসুনে অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন সালফারযুক্ত যৌগ রয়েছে। এসব উপাদানের কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে এবং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে। রান্নায় রসুন ব্যবহার করা সহজ। কাঁচা বা হালকা রান্না করা রসুন সালাদ, সস কিংবা বিভিন্ন খাবারে যোগ করা যায়।
আদা
আদায় থাকা বিভিন্ন যৌগের প্রদাহ-বিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গলা অস্বস্তি বা বমি বমি ভাবের মতো কিছু সমস্যায় আদা ব্যবহারের প্রচলনও রয়েছে। স্যুপ, তরকারি, স্মুদি কিংবা চায়ে আদা যোগ করা যেতে পারে। শীতের সময়ে আদা চা অনেকের জন্য আরামদায়ক উষ্ণ পানীয় হিসেবেও কাজ করতে পারে।
দই
দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী জীবাণু অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। আর অন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চিনি বেশি না দিয়ে দইয়ের সঙ্গে তাজা ফল বা সামান্য বাদাম যোগ করে স্বাস্থ্যকর নাস্তা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।
পালং শাক
পালং শাকে ভিটামিন, খনিজ ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এতে ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিনসহ বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। সালাদ, স্যুপ বা রান্নায় পালং শাক ব্যবহার করা যায়। হালকা রান্না করলে শাকের কিছু পুষ্টি শরীরের জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
শুধু খাবার নয়, দরকার সুষম জীবনযাপন
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং বৈচিত্র্যময় সুষম খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
শীতে সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো অসুস্থতা হলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





