ওসমান হাদি ফিরবেন, তবে দ্রুত নয়, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড স্পোর্টস সার্জারি বিভাগের ক্লিনিক্যাল ফেলো ডা. আব্দুল্লাহ আল রাফি জানিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ ওসমান হাদি সুস্থ হয়ে ফিরবেন। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তার ফেরার আশা করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় হাদির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডা. রাফি। তিনি বলেন, কেউ যদি খুব দ্রুত হাদির ফেরার আশা করে, তাহলে সেটি অবাস্তব প্রত্যাশা—এমনকি বোকামির শামিল।

আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ২ টাকা কমলো জ্বালানি তেলের দাম

ডা. রাফি জানান, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগ অত্যন্ত উন্নত ও সুসজ্জিত। এখানে নিউরো সার্জারির জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট (এনএনআই)’ রয়েছে, যেখানে রোবোটিক সার্জারিসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, হাদির মাথার ভেতরে এখনো গুলির একটি অংশ থাকার তথ্য রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে ইন্ট্রা-অপারেটিভ এমআরআই করানো অত্যন্ত জরুরি হবে। এ ধরনের জটিল ও আধুনিক সার্জারি বাংলাদেশ বা আশপাশের দেশে সম্ভব নয়। সে কারণে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত হাদির পরিবারের একটি সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বাণিজ্য মেলায় কারা প্যাভিলিয়ন প্রথম স্থান অর্জন

হাদির বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গে ডা. রাফি বলেন, তিনি এখন জিসিএস-থ্রি কন্ডিশনে আছেন, যা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থা নির্দেশ করে। এই ধরনের রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কিছুদিন আগেও একই হাসপাতালে গুরুতর হেড ইনজুরি নিয়ে একজন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, যিনি প্রায় তিন মাস আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাদির ক্ষেত্রেও একই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

সবশেষে ডা. রাফি বলেন, এটি কোনোভাবেই দু-এক দিনের ব্যাপার নয়। হাদি রাতারাতি সুস্থ হয়ে উঠবেন—এমনটি ভাবা ঠিক নয়। এমনকি সুস্থ হয়ে ফিরলেও তাকে দীর্ঘ সময় আইসিইউ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।