ড. খলিলের দিল্লি সফরে ঢাকা-দিল্লি কূটনীতিতে নতুন মাত্রা হচ্ছে

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:১১ অপরাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

# শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ

# অপরাধী প্রত্যর্পণ ইস্যু পাবে বিশেষ গুরুত্ব

আরও পড়ুন: সংসদে ১৪ অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস, আরও ২টি উত্থাপন

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বদলে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। বৃহৎ শক্তিগুলো যখন শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, তখন প্রতিটি দেশকেই তার ‘কৌশলগত’ অবস্থান স্পষ্ট করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন আঙ্গিকে টেকসই সম্পর্ক শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা-দিল্লি কূটনীতিতে নতুন সমীকরণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এই সফরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতে অবস্থানরত অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তিনি বলেন, ভারতে থাকা অনেকেরই বাংলাদেশের আদালতে সাজা হয়েছে, আবার অনেকের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। বিশেষ করে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর প্রধান শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। গত ৭-৮ মার্চ রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের তদন্তকারী সংস্থা। বর্তমানে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দিল্লিতে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুঁড়ি’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত দিতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরের শুরুতেই তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। আজ ৮ এপ্রিল তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

দিল্লি সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই। এসব আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হবে।”

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর হবে টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরির সফর। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের বিবর্তনের রোডম্যাপ কেমন হতে পারে, তা উঠে আসবে দিল্লির আলোচনায়। বিশেষ করে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বাণিজ্যের বাধা দূর করা, গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আনা এবং দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক রক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থে সীমান্ত হত্যাসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে।”

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, এই সফর কতটা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে পরিচালিত হবে তা দেখার বিষয়। তিনি ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।