বেসামরিক বিমান চলাচল উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান কর্মশালার উদ্বোধন

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৯ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের টেকসই, পরিকল্পিত ও ভবিষ্যতমুখী উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর উদ্যোগে ২১ জুন (রবিবার) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে “Civil Aviation Master Planning Overview” শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালাটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত Civil Aviation Master Plan (CAMP) প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা সূচনার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর পরিচালনায়, ICAO GOLD সনদপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন একাডেমি, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

আরও পড়ুন: আজ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

CAMP হলো বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় রোডম্যাপ, যা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বা তারও অধিক সময়ের জন্য বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। এ পরিকল্পনার আওতায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার ন্যাভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মান ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো সমন্বিত জাতীয় Civil Aviation Master Plan বিদ্যমান নেই। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ধরনের জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা প্রণয়নে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) এর কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ICAO বাংলাদেশকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সম্মতি জানিয়েছে। আজকের এই কর্মশালার মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত জাতীয় Civil Aviation Master Plan প্রণয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো।

আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মিস আফরোজা খানম, এমপি (Ms. Afroza Khanam) । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি (M. Rashiduzzaman Millat)। অনুষ্ঠানে Guest of Honor হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি (Fahmida Akhtar, ndc)। 

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বেবিচক এর সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি (Air Commodore Abu Sayeed Mehboob Khan, BSP, BUP, ndc, psc)।

কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এল আমিরি (Mr. Mohamed El Amiri)। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের Civil Aviation Master Planning-এর অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা প্রণয়নের পদ্ধতি, কৌশলগত গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর জাতীয় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডবিউসি, এসিএসসি, পিএসসি (Air Vice Marshal Md Mostafa Mahmood Siddiq, BSP, GUP, ndc, afwc, acsc, psc) ।

মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর আলোকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী আকাশপথ সংযোগ সম্প্রসারণ, ঢাকাসহ প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহকে আধুনিক লজিস্টিক ও যাত্রী পরিবহন কেন্দ্রে উন্নীতকরণ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিমান চলাচল খাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে সরকারের এ দীর্ঘমেয়াদি ভিশন প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের ফলে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ এবং নতুন বিমানবন্দর নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত বর্তমানে দ্রুত বিকাশমান এবং বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণ এ অগ্রগতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য। এ কর্মশালা বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করবে, যা দেশের বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (CEO), বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।