জাপানি নারীকে বিয়ে করেছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, আছে দুই মেয়েও !

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন চট্টগ্রামের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি, যিনি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম অভিভাবক ও প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক, বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য, চারবারের সংসদ সদস্য; ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা একজন ব্যবসায়ী এবং এমন এক পরিবারের প্রধান, যার প্রভাব আনোয়ারা থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল।

জনসমক্ষে তাঁর পারিবারিক জীবনের যে বিবরণ রয়েছে, তা-ও সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি চট্টগ্রামের খ্যাতনামা শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কন্যা নূর নাহার জামানকে বিয়ে করেন। প্রকাশিত বিভিন্ন বিবরণ অনুযায়ী, এই দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

তবে জাপানি সরকারের রেকর্ড, ব্যাংকিং নথি, ছবি এবং ‘ডেইলি ওয়াদা’ (Daily Waadaa)-র সংগৃহীত একটি সাক্ষাৎকারে অপর এক পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে... যা বাবুর জীবনের জনসমক্ষে থাকা সমস্ত বিবরণে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে আখতারুজ্জামান ‘মিনাকো কাওয়ারাজাকি’ নামে এক জাপানি নারীকে বিয়ে করেন।

আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডার নৈরাজ্যের সঙ্গে দামও বাড়ল

তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

জ্যেষ্ঠ কন্যা ‘নিনা কাওয়ারাজাকি’ বিবাহবন্ধনের চার মাস পর ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করেন। তবে ওয়াদার পর্যালোচিত নথিতে ছোট কন্যার নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

এখন, বিয়ের প্রায় ৩৪ বছর এবং আখতারুজ্জামানের মৃত্যুর ১৪ বছর পর, নিনা এমন একটি ব্যাংকে জমা দেওয়া নথিতে উপস্থিত হয়েছেন, যে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠায় তাঁর বাবা ভূমিকা রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে তা জোরপূর্বক দখলে নিয়েছিলেন।

তিনি একটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ভাঙাতে (ক্যাশ করতে) চান। তবে এই অর্থ গল্পের একটি অংশ মাত্র।

প্রথমবারের মতো মিনাকোও তাঁদের বিবাহিত জীবন নিয়ে মুখ খুলেছেন।

হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়াদা’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি আখতারুজ্জামানের সঙ্গে এমন এক জীবনের বর্ণনা দিয়েছেন, যা বাংলাদেশে তাঁর যাপিত জগতের সম্পূর্ণ বাইরে ছিল... মিনাকো জানান, তাঁদের জীবন এতটাই আলাদা ছিল যে, শেষ পর্যন্ত তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছিলেন।

জাপানে নথিভুক্ত বিবাহ :

‘ওয়াদা’র পর্যালোচিত প্রথম নথিটি হলো ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ঢাকায় জাপানি দূতাবাস থেকে ইস্যুকৃত একটি বিবাহ সনদ।

সেখানে স্বামীকে ‘চৌধুরী আখতারুজ্জামান’ হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে, যিনি ১৯৪৫ সালের ৩ মে জন্মগ্রহণকারী একজন বাংলাদেশি নাগরিক। আর স্ত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে মিনাকো কাওয়ারাজাকি হিসেবে, যিনি ১৯৬০ সালের ২২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন এবং জাপানের কানাগাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলের (প্রিফেকচার) স্থায়ী বাসিন্দা।

বিবাহের তারিখ নথিভুক্ত রয়েছে ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট এবং স্থান: যুক্তরাজ্য।

সনদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি দুই দিন আগে কানাগাওয়া প্রিফেকচারের চিগাসাকি সিটির মেয়র কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি সরকারি পারিবারিক নিবন্ধনের সত্যায়িত কপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাপানি দূতাবাস থেকে ইস্যুকৃত এবং চিগাসাকি পারিবারিক নিবন্ধনের একটি নতুন কপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি অপর একটি সনদেও মূল বিবরণ একই পাওয়া যায়: মিনাকো ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট ব্রিটেনে বাংলাদেশি নাগরিক আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে বিয়ে করেন।

ওয়াদা এই নথির ছবি পর্যালোচনা করেছে এবং জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তা যাচাই করে দেখেছে।

তবে জন্মতারিখে একটি অসংগতি রয়েছে। জাপানি রেকর্ডে আখতারুজ্জামানের জন্ম তারিখ ১৯৪৫ সালের ৩ মে দেওয়া হলেও বাংলাদেশে প্রকাশিত জীবনীগুলোতে সাধারণত ১ মে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু এই বিয়ে নিজেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত জীবনবৃত্তান্তের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনকে সামনে নিয়ে আসে।

জাপান সরকারের আরেকটি নথি এর পরের ঘটনাগুলোর কিছুটা তুলে ধরে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল হংকংয়ে জাপানের কনস্যুলেট-জেনারেল থেকে ইস্যুকৃত একটি জন্ম সনদে কাওয়ারাজাকি নিনা-কে সনাক্ত করা হয়, যিনি ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন।

‘পিতা’র জায়গায় লেখা রয়েছে আখতারুজ্জামান চৌধুরী; ‘মাতা’: কাওয়ারাজাকি মিনাকো; এবং ‘সম্পর্ক’: ১ম কন্যা। ওয়াদার পর্যালোচিত জাপানি ভাষার একটি পারিবারিক নিবন্ধনের উদ্ধৃতিও এই তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে লন্ডনে নিনার জন্ম এবং মিনাকোকে তাঁর মা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মিনাকো ওয়াদাকে জানান, তাঁর এবং আখতারুজ্জামানের দুটি কন্যা রয়েছে। তবে তিনি তাঁদের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাননি।

ওয়াদার হাতে আসা একটি ছবিতে দেখা যায়, আখতারুজ্জামান ‘দ্য পেনিনসুলা’ হোটেলের বাইরে মিনাকো এবং দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটির নারীকে স্বাধীনভাবে মিনাকো হিসেবে যাচাই করেছে ওয়াদা।

একটি পুরনো চেক ও এফডিআর :

২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখের একটি চিঠি না থাকলে এই গল্পটি হয়তো একজন রাজনীতিবিদ বা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্বল্পপরিচিত অধ্যায় হয়েই থাকত। চিঠিটি গুলশানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) কর্পোরেট শাখার শাখা ব্যবস্থাপক বরাবর লেখা এবং ‘নিনা কাওয়ারাজাকি (জামান চৌধুরী)’ নামে স্বাক্ষরিত।

নিনা লিখেছেন: “আমি ২০১২ সাল থেকে আপনার শাখায় আমার প্রয়াত পিতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একটি অটো-রিনিউয়াল সুবিধাসহ স্থায়ী আমানত (এফডিআর) পরিচালনা করছি...”

তিনি ইউসিবিকে এটি ভাঙানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে না থাকায়, তাঁর পক্ষে এই অর্থ গ্রহণের জন্য তাঁর মা মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে (জামান চৌধুরী) ক্ষমতা প্রদান (অ্যালট) করেছেন। চিঠিতে ইউসিবির ২৩ সেপ্টেম্বরের একটি প্রাপ্তি সিল রয়েছে। আরেকটি নথি এ ঘটনার কাগজের প্রমাণ যোগায়। এটি আখতারুজ্জামান মারা যাওয়ার প্রায় আট মাস আগে, অর্থাৎ ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখের ইউসিবির একটি স্থায়ী আমানতের রসিদ। সেখানে আমানতকারীর জায়গায় দুটি নাম রয়েছে:

“আখতারুজ্জামান চৌধুরী ও নিনা কাওয়ারাজাকি (জামান চৌধুরী)”

আমানতের পরিমাণ ছিল ১ কোটি টাকা। রসিদে ১৩.৫% বার্ষিক সুদে তিন মাসের স্থায়ী আমানতের কথা উল্লেখ রয়েছে।

২০১২ সালের রসিদের অ্যাকাউন্ট নম্বরটি নিনার ২০২৬ সালের আবেদনপত্রে উল্লেখিত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মিলে যায়, কেবল ফরম্যাটিং এবং পরবর্তী নথিতে যুক্ত হওয়া একটি অতিরিক্ত ডিজিট ছাড়া।

বর্তমানে আমানতটির পুঞ্জীভূত ব্যালেন্স কত, এটি ক্রমাগত নবায়ন করা হয়েছিল কি না, অন্তর্বর্তীকালীন বছরগুলোতে কোনো টাকা তোলা হয়েছিল কি না বা নিনার সেপ্টেম্বর মাসের আবেদনের ওপর ইউসিবি কী পদক্ষেপ নিয়েছে—তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি ওয়াদা।

১৯৯২ সালে আখতারুজ্জামান অত্যন্ত পরিচিত একজন ব্যক্তি ছিলেন। বাংলাদেশেও তাঁর পরিবার সর্বজনবিদিত ছিল।

তবে মিনাকো জানান, তিনি শুরুতে পুরো বিষয়টি জানতেন না। ওয়াদার সঙ্গে আলাপে তিনি বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কীভাবে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল বা কী পরিস্থিতিতে তাঁরা বিয়ে করেছিলেন তা ব্যাখ্যা করতে অস্বীকার করেন।

জাপান থেকে হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, “ওটা একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়। আমি এটি আপনার কাছে প্রকাশ করতে পারব না।”

তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি জানতে পেরেছিলেন যে বাংলাদেশে তাঁর স্বামীর আরেকটি পরিবার রয়েছে। তবে দুটি পরিবার কখনোই একীভূত হয়নি।

মিনাকো বলেন, “আমরা কখনোই তাঁদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। স্বামীর সঙ্গে আমাদের একটি আলাদা জীবন ছিল।”

ইউসিবি বিতর্ক :

আখতারুজ্জামান ছিলেন ইউসিবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ব্যাংকটি তাঁর ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার এবং তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুতর কিছু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল।

নিজের কোম্পানির নেওয়া ২৫০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ করে।

এরপর ব্যাংকটি নিয়ে শুরু হয় এক তিক্ত লড়াই।

১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ইউসিবির পরিচালক হুমায়ুন জহির ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই হত্যা মামলার অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে আখতারুজ্জামানও ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তবে এই অভিযোগকে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্তকরণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

১৯৯৯ সালে আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চড়াও হয়, যেখানে পরিচালকদের লাঞ্ছিত করা হয় এবং জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পর্ষদ ভেঙে দেয়। পরিশেষে আখতারুজ্জামান ২০১০ সালে আবারও ইউসিবির পর্ষদে ফিরে আসেন।

তিনি ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। নিনার নামসংবলিত এফডিআরটি সেই বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাসের।

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সবচেয়ে দৃশ্যমানভাবে স্থানান্তরিত হয় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের কাছে, যিনি পরিবারের চট্টগ্রাম আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর আর্থিক বিষয়াদিও পরবর্তীতে ব্যাপক তদন্তের মুখে পড়ে। ২০২৪ সালে আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট রিপোর্ট করে যে, সাইফুজ্জামান যুক্তরাজ্যে ৩৬০টি বাড়িসহ বিদেশে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন এবং বাংলাদেশের ট্যাক্স রিটার্নে এই সব বিদেশি সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করেননি। সাইফুজ্জামান দাবি করেন, তাঁর সম্পত্তি বৈধ বিদেশি ব্যবসার অর্থায়নে কেনা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি চলমান একটি দেওয়ানি তদন্তের অংশ হিসেবে ইউকেতে তাঁর বেশ কিছু সম্পত্তি ফ্রিজ (বাজেয়াপ্ত) করার আদেশ নিশ্চিত করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি আদালত মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে আনুমানিক ২৭১.৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ৫১৮টি ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করার জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এই অভিযোগগুলো এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে মীমাংসিত হয়নি।

‘আমি তাঁদের কখনো দেখিনি’ :

মিনাকো জানান, আখতারুজ্জামানের বাংলাদেশের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি।

তিনি বলেন, “আমি জানি সেখানে অন্য একটি পরিবার আছে। আমি আসলে কখনো তাঁদের দেখিনি। তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনি বা তাঁর মেয়েরা বাংলাদেশে আখতারুজ্জামানের পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখেননি। কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র ওয়াদাকে জানিয়েছিল যে জাপানি পরিবারটি মূলত সাইফুজ্জামানের কাছ থেকে কিছু হুমকি পেয়েছিল।

তবে তাঁর কাছ থেকে কোনো হুমকি পেয়েছেন কি না তা স্পষ্টভাবে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন।

মিনাকো বলেন, “না, না, আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি না। তাঁদের কাছ থেকে আমাদের কোনো হুমকি নেই কারণ আমরা সম্পূর্ণ আলাদা জীবনযাপন করি।”

আজ আখতারুজ্জামানের বাংলাদেশের পরিবার সম্পর্কে তিনি যা জানেন, তা মূলত ইন্টারনেট থেকে পাওয়া বলে জানান।

“আমি তাঁদের সম্পর্কে কিছুই জানি না, আমার একমাত্র উৎস হলো ইন্টারনেট।” এমনকি আখতারুজ্জামানের মৃত্যুও দুটি পরিবারকে কাছাকাছি আনতে পারেনি। মিনাকো জানান, বাংলাদেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে নয়, বরং খবরের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে তাঁর স্বামী মারা গেছেন।

অর্থবিত্তের ক্ষেত্রেও এই দূরত্ব বজায় ছিল বলে মনে হয়।

ওয়াদা যখন জানতে চায় যে তাঁর দুই মেয়ে তাঁদের বাবার সম্পত্তির অংশ পেয়েছেন কি না, মিনাকো উত্তরে বলেন: “না, না, আমরা পাইনি।” তিনি এ নিয়ে আর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

ইউসিবির বর্তমান প্রক্রিয়ার বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর এক মেয়ের ব্যাংকে যাওয়া এবং সেই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মিনাকো কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তবে সরকারি ও ব্যাংকিং নথিপত্রগুলো নিজস্ব সত্য তুলে ধরে।

সূত্র : ডেইলি ওয়াদা