ঈদের দিনে সাভার, আশুলিয়া বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে সারা দেশের মতো সাভার, আশুলিয়া এলাকায়ও বইছে উৎসবের আমেজ। ঈদের দিন সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাতে মানুষ ছুটে আসেন বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থানে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়,
সাভারের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে দেখা যায় নানা বয়সী মানুষের ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। সবুজে ঘেরা এই ঐতিহাসিক স্থানে ঈদের দিনে যেন এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। ঢাকার মিরপুর থেকে ঘুরতে আসা আরিফ হোসেন বলেন, “ঈদের দিনে একটু খোলা পরিবেশে সময় কাটাতে এখানে আসা। পরিবারের সবাই মিলে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারাও বেশ আনন্দ করছে।”
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে ঈদ আনন্দে মুখর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জমজমাট বিনোদন মেলা
আশুলিয়ার জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডম-এ ছিল তরুণ-তরুণী ও শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিভিন্ন রাইড, ওয়াটার পার্ক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকা থেকে আসা তানিয়া আক্তার বলেন, “অনেক দিন পর পরিবারের সবাই একসঙ্গে বের হয়েছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দটা পূর্ণ হয়েছে। রাইডগুলো খুবই উপভোগ করছি।”
একইভাবে ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থান ধামরাই জমিদার বাড়ি এলাকাতেও মানুষের ঢল নামে। পুরনো স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই এখানে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবার ঈদেই এখানে অনেক মানুষ আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে সবাই বেশ খুশি।”
আরও পড়ুন: ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত
শুধু বড় বিনোদন কেন্দ্রই নয়, আশপাশের ছোট পার্ক, রিসোর্ট ও পিকনিক স্পটগুলোতেও ছিল ভিড়। বিশেষ করে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন রিসোর্টে আগে থেকেই বুকিং পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে ঈদের দিন সেখানে বাড়তি দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে কিছুটা হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিভিন্ন ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল জোরদার করেন। এছাড়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশও ছিল তৎপর। তবে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় ধীরগতির যানজট লক্ষ্য করা যায়।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে আসা শিশু-কিশোরদের আনন্দ ছিল সবচেয়ে বেশি। নতুন পোশাক পরে, হাতে খেলনা বা বেলুন নিয়ে তাদের উচ্ছ্বাস যেন পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনেক অভিভাবকই জানান, শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই তারা ঈদের দিনে বাইরে ঘুরতে আসেন।
রাজধানীর উত্তরা থেকে আসা দম্পতি সুমন ও নুসরাত বলেন, “সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় কোথাও যাওয়া হয় না। ঈদের ছুটিতে একটু সময় পেয়ে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। পরিবেশটা খুব ভালো লাগছে, যদিও ভিড় একটু বেশি।”
এদিকে বিক্রেতারাও ঈদের এই ভিড়কে কেন্দ্র করে জমজমাট ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন খাবারের দোকান, খেলনার স্টল ও ফটোগ্রাফি সার্ভিসগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। স্থানীয় এক বিক্রেতা জানান, “ঈদের সময়টাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবসার সুযোগ। আজ সারাদিনই ভালো বিক্রি হয়েছে।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় একদিকে যেমন উৎসবের আনন্দকে বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সুন্দর চিত্রও তুলে ধরেছে। মানুষের মুখে হাসি আর প্রাণবন্ত পরিবেশই প্রমাণ করে—ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রের কোণে কোণে।





