গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদের ওপর ‘পরিকল্পিত হামলা’: নারী গ্রেপ্তার, নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

Any Akter
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৫ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরে ‘আজকের পত্রিকা’র সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের ওপর পরিকল্পিত হামলা, ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটানোর অভিযোগে খাদিজা খাতুন নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান পেশাগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করলেও তার বিরুদ্ধে গাজীপুরে অনৈতিক আচরণের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরবর্তীতে ২৪ মার্চ পূর্ব শত্রুতা ও গাজীপুর প্রেসক্লাবের আভ্যন্তরিণ গ্রুপিংয়ের জেরে ১ থেকে ৩ নম্বর আসামির প্ররোচনায় খাদিজা খাতুন ওই সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালান। এসময় অভিযুক্তরা হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ওই সাংবাদিকের সামাজিক ও পেশাদার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা।

আরও পড়ুন: ভারত থেকে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল এলো, মার্চে মোট আমদানি ২২ হাজার টন

এই ঘটনায় সাংবাদিক আসাদ বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সদর মেট্রো থানায় মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন, হান্নান মোল্লা (৫১), মো. লতিফ সরকার টুটুল (৫০) ও নজরুল ইসলাম আজহার (৫২)। বাদীর অভিযোগ, ১ নং আসামী হান্নান মোল্লার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ মহানগর হাকিম আদালত, গাজীপুরে আমি ২ কোটি টাকার মানহানি মামলা (সিআর নং- ৫৭২/২০২৪) দায়ের করা হয়। টুটুলের বিরুদ্ধে আগেও জিডি করা হয়েছে এবং তিনি বৈষম্যবিরোধী একটি মামলার আসামী। নজরুল পূর্বে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন ও প্ররোচনার সাথে যুক্ত। ১ থেকে ৩ নম্বর আসামি পেশাগত শত্রুতা ও প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের জেরে ওই নারীকে ভাড়া করে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদ জানান, গত ১১ মার্চ তিনি ঢাকার দৈনিক দিনকাল-এর সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন ও মাছরাঙা টিভির সাংবাদিক ফারদিন ফেরদৌসের সাথে দিনভর ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ওইদিন তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সচিবালয়ে দুজন সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলেও অংশ নেন তিনি।

আরও পড়ুন: রায়পুরে মাসে ৫ কোটি টাকার ডাব বিক্রি

আসাদ বলেন, "ঐদিনের প্রতিটি স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে আমি গাজীপুরে ছিলাম না। অথচ সম্পূর্ণ কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে আমার ওপর এই হামলা করা হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর একটি কুচক্রী মহল আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করছে এবং বিগত সরকারের মন্ত্রী ও সাবেক মেয়ল জাহাঙ্গীরের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে নিউজ করা আমাকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ গাজীপুরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিচার দাবি করে। তবে মামলা করার পর থেকে আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও পাল্টা মিথ্যা মামলার ভয়ে বর্তমানে ওই সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উজ্জল জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।