জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইন, স্বামীদের সহায়তায় পাম্পে দাঁড়াচ্ছেন নারীরাও

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ০১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মাগুরায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর মিলছে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহায়তা করতে নারীরাও লাইনে দাঁড়াচ্ছেন জ্বালানি সংগ্রহের জন্য।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শহরের ভিটাসাইর এলাকায় অবস্থিত মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক, যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের পাশাপাশি নারীরাও তেল নিতে লাইনে অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক ও জনপথের বৃক্ষরোপণ

জানা গেছে, মাগুরায় মোট ১৪টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সদর উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা সেচযন্ত্রে ব্যবহারের জন্য পাত্র হাতে ডিজেল সংগ্রহে ভিড় করছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, চলমান ধান আবাদের জন্য তাদের এখনো বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন। কোনো কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণত নারীরা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কেনায় অভ্যস্ত নন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় পরিবারের কাজ সচল রাখতে নারীরাও এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী পুরুষদের সময় বাঁচাতে নারীরা ড্রাম বা পাত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক রাখার দায়ে জরিমানা আদায়

সদর উপজেলার কাটাখালি এলাকার আশা বেগমকে কোলে সন্তান নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, তার স্বামী কৃষিকাজ করেন এবং তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় লাগায় কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাই স্বামীর সহায়তায় তিনি নিজেই তেল নিতে এসেছেন।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সুফিয়া খাতুন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে সংসার ও কৃষিকাজের স্বার্থে তিনিই এখন তেল সংগ্রহ করছেন।

এদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তবে চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ বেশি করে তেল সংগ্রহে আগ্রহী হওয়ায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন মনিটরিং জোরদার করেছে।

ভিটাসাইর এলাকার মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, নারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না দিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।