শরীয়তপুরে পুরোনো কবর থেকে ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার

Sanchoy Biswas
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:১৭ পূর্বাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়ায় নিখোঁজের ২৬ দিন পর আদালতের নির্দেশে পুরোনো একটি কবর থেকে এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরচটাং গ্রাম থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শৌচাগার সংকট, প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন কবীর আহমেদ ভূঞার

উত্তোলন করা মরদেহটি উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চরচটাং গ্রামের মৃত সোনাই বেপারীর ছেলে মন্টু বেপারীর (৬৬) বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক ছিলেন।

নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডা. আশিক মাহমুদ বলেন, মন্টু বেপারী হারিয়ে গেছে—থানায় ৯ এপ্রিল এমন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আমরা জানতে পারি, গত ২৭ মার্চ থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি তাঁর নানা বাড়িতে থাকতেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্রেস করে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাশের বাড়ির একটি পুরোনো কবরে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি দেখতে পাই এবং কাপড় দেখতে পাই। পরে স্থানীয় সহযোগিতায় মরদেহটিও দেখতে পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পুরোনো কবর খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠিয়েছি। এ সময় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ, থানা পুলিশ ও সিআইডি টিম উপস্থিত ছিল।

আরও পড়ুন: এসএসসির প্রথম দিনেই ভুল প্রশ্নপত্র, সাংবাদিকদের সঙ্গে কেন্দ্র সচিবের অসৌজন্যমূলক আচরণ

তিনি বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহজনক কয়েকজনের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, আজ মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে পুরোনো কবর থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। উদ্ধারের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরচটাং এলাকার মন্টু বেপারী তাঁর মামাবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি ঢাকাতে ফেরিওয়ালার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, একাধিক বিয়ে করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কোনো স্ত্রী বা সন্তানরা থাকেন না।

২৭ মার্চ থেকে মন্টু নিখোঁজ হন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ৯ এপ্রিল পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বোন মিনার বেগম। ওই জিডির তদন্ত করছিলেন আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সুধানশু সরকার। সোমবার ওই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করতে নিখোঁজ মন্টুর মামাবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে একটি বড় গর্ত দেখতে পান। এরপর বাড়ির পেছনের দিকে মন্টুর মামা শাহেদ আলী মাদবরের কবরে দুর্গন্ধ পান এবং কবরটি খোঁড়াখুঁড়ি দেখতে পান। পাঁচ বছরের পুরোনো ওই কবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তখন স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে কবরের একটি অংশ খুঁড়ে দেখা হয়। তখন সেখানে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। পরে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে মিম আক্তার বলেন, যেখানে বাবার মরদেহ পাওয়া গেছে, তাঁর পাশের ঘরের ভ্যানচালক ফারুক মাদবর (৪০), তাঁর স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৭), ছেলে পারভেজ মাদবর (২১), পলাশ মাদবর (১৮), সাইফুল মাদবর (৭)—ঘটনা জানাজানির পর পালিয়েছে। তারাই আমার বাবাকে খুন করেছে। তা না হলে তারা পালাবে কেন?

তিনি বলেন, পুরোনো কবরে আমার বাবার মরদেহ আমি দেখে চিনেছি—তাঁর পরনের কাপড়, কম্বল ও মোবাইল দেখে।

তিনি আরও বলেন, বাবা ঢাকা কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় থাকতেন। তিনি ঢাকাতে বিভিন্ন কোম্পানির মাল ফেরি করে বিক্রি করতেন। অসুস্থ হওয়ার কারণে ঈদুল ফিতরের ৮ দিন আগে শরীয়তপুরে চলে আসেন এবং আমার ফুফুর ঘরের পাশে একটি টিন দিয়ে ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন।