পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত রেলযাত্রা, যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রতিমন্ত্রীর দরজায় কড়া নাড়লেন কবীর ভূঞা
একদিকে রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা, অন্যদিকে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন — দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একই সঙ্গে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সোচ্চার হয়েছেন বিএনপি কর্তৃক প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের এমপি প্রার্থী ও ভূঞা গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ ভূঞা। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি আখাউড়া-কসবা করিডোরে একটি পূর্ণাঙ্গ ইপিজেড স্থাপনের দাবিতেও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি প্রেরণ করেছেন। এলাকাবাসীর পক্ষে একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই উদ্যোগ নেওয়াকে স্থানীয়রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন।
রেল নিরাপত্তায় পাঁচ দফা রোডম্যাপ
আরও পড়ুন: শরীয়তপুর প্রেসক্লাব নির্বাচন: সভাপতি আবুল হোসেন, সম্পাদক রবীন
রেলপথ প্রতিমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে কবীর আহমেদ ভূঞা উল্লেখ করেন, রেল ভ্রমণ দেশের যোগাযোগের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও সম্প্রতি চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে যাত্রীরা গুরুতর আহত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে আশু প্রতিকার না নিলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে কমে যাবে।
সমস্যা সমাধানে তিনি পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। আইনি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু হলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান। সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে রেলপথের পাশের এলাকায় নিয়মিত মাইকিং, পোস্টার বিতরণ এবং স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসায় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন, দুর্গম এলাকায় ড্রোন নজরদারি এবং ট্রেনের জানালায় মজবুত নিরাপত্তা গ্রিল স্থাপনের সুপারিশ করেন। এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন এবং রেললাইনের পাশে অবৈধ বসতি উচ্ছেদের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের দাবি
একই করিডোরে ইপিজেড — অর্থনৈতিক বিপ্লবের হাতছানি
রেল নিরাপত্তার পাশাপাশি কবীর আহমেদ ভূঞা আখাউড়া-কসবা করিডোরে একটি পূর্ণাঙ্গ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপনের দাবিতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক এবং আখাউড়া-আগরতলা রেলসংযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরটি ইপিজেড স্থাপনের জন্য দেশের সবচেয়ে উপযোগী স্থানগুলোর একটি। আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের নৈকট্য এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার এই স্থানটিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
কবীর আহমেদ ভূঞা বলেন, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এই করিডোরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে। একটি নিরাপদ ও উন্নত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ইপিজেডের সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে। রেল নিরাপত্তা ও ইপিজেড — এই দুটি বিষয় আসলে পরস্পরের পরিপূরক এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের দুটি অপরিহার্য স্তম্ভ।
এলাকাবাসী বলছেন, কবীর আহমেদ ভূঞা একটি বিষয়ে নয়, একসঙ্গে অনেক বিষয়ে ভাবেন এবং কাজ করেন। সেতু, স্টেডিয়াম, হাসপাতাল, পৌরসভা, বৃক্ষরোপণ — আর এখন রেল নিরাপত্তা ও ইপিজেড। তাঁর এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে তিনি এলাকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেন। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক এবং কসবা ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, সরকার দ্রুত এই দুটি বিষয়েই কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং কসবা-আখাউড়া অঞ্চল একদিন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ করিডোর হিসেবে পরিচিতি পাবে।





