এক যুগ পর নিকলীতে নৌকা বাইচ, উৎসবে মাতল হাজারো মানুষ

Sadek Ali
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৬ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ঘোড়াউত্রা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিকলী উপজেলা পরিষদের পূর্বদিকে বেড়িবাঁধসংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

নিকলী উপজেলা সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌকা বাইচকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। সকাল থেকেই সড়ক ও নৌপথে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ জড়ো হতে থাকেন অনুষ্ঠানস্থলে।

আরও পড়ুন: সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও এতিম শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

নিকলী ছাড়াও বাজিতপুর, কটিয়াদী, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, কুলিয়ারচরসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী নৌকা বাইচ দেখতে আসেন। নদীতে ছোট-বড় নৌকা নিয়েও অবস্থান নেন অনেকে।

বাইচ শুরু হতেই বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হর্ষধ্বনি আর ঢাকঢোলের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে ঘোড়াউত্রা নদী। প্রতিযোগী নৌকাগুলো জয়ের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে নদীর বুক চিরে এগিয়ে গেলে দুই পাড়ের দর্শকদের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি’র অভিযানে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। এ সময় নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার, কৃষকদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হাজী মাসুক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর নৌকা বাইচ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস। নৌকা বাইচ দেখতে আসা নাজমা বেগম বলেন, তাঁর ১০ বছর বয়সী নাতনি রিয়া আগে কখনো নৌকা বাইচ দেখেনি। এবার প্রথমবারের মতো এমন প্রতিযোগিতা দেখে তারা খুবই আনন্দিত।

আয়োজকরা জানান, নিকলীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের সংস্কৃতি ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

বড় নৌকার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে নিকলী সদরের মোহরকোনা-কেশবপুর একতা সংঘের নৌকা। বিজয়ী দল পায় একটি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সদর ইউনিয়নের নাগারছিহাটি গ্রামের নৌকা পায় একটি ফ্রিজ। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নৌকা পায় একটি এলইডি টেলিভিশন।

ছোট নৌকার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে লাহুন্দের নৌকা। বিজয়ী দল পুরস্কার হিসেবে পায় একটি মুঠোফোন।

উল্লেখ্য, নিকলীতে একসময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের পর এ আয়োজন নিয়মিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর নিকলীতে পৃথক উদ্যোগে দুটি নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সোয়াইজনী নদীতে একটি আয়োজনের পর শুক্রবার ঘোড়াউত্রা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো আরেকটি নৌকা বাইচ।

হাওর অধ্যুষিত নিকলীর মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বর্ষায় নৌকা যেমন মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম, তেমনি নৌকা বাইচ এখানকার লোকজ সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ বিরতির পর ঘোড়াউত্রা নদীর বুকে বৈঠার ছন্দে পুরোনো সেই ঐতিহ্য ফিরে আসায় আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দারা।