বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, সিনথিয়াসহ পুরো চক্র অধরা
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা চক্রটির মূলহোতা শিরিন আক্তার ওরফে সিনথিয়া ওরফে ফাহমিদা ইয়াদসহ অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীদের দায়ের করা পৃথক মামলায় ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের আদালত থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এখনো তারা অধরা রয়েছেন।
আরও পড়ুন: বুড়িগঙ্গায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবে উৎসবমুখর নগরবাসী
সম্প্রতি প্রতারণার শিকার টাঙ্গাইলের লোহান হোসেন তালুকদার ঢাকার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতারণায় ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম লাইনার স্টুডেন্ট অ্যান্ড স্কিল মাইগ্রেশন কনসালটেন্সি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ বিন নাসির, চেয়ারম্যান ইউসুফ বিন নাসির জনি, সিইও শিরিন আক্তার ওরফে সিনথিয়া, ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম, পরিচালক তৌসিফ, পরিচালক সামিরসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোহান হোসেন তালুকদারকে গ্রিস ও সাইপ্রাসে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে চক্রটি ১৫ লাখ টাকা নেয়। সাইপ্রাসে থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে লিখিত চুক্তিও করা হয়।
আরও পড়ুন: শেরেবাংলা নগর চেকপোস্টে ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ দুইজন গ্রেফতার
পরবর্তীতে ভিসা প্রসেসিং ও অন্যান্য খরচের কথা বলে বিভিন্ন দফায় আরও অর্থ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি ভুয়া ভিসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে যাচাই-বাছাই করে ভিসাটি ভুয়া বলে জানতে পারেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে অভিযুক্তরা তা ধামাচাপা দিতে সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাব দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৈঠকেই সিনথিয়াসহ চক্রের সদস্যরা লোহান হোসেনকে প্রাণনাশ ও গুম করার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় উত্তরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে গত ৯ জুন ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করেন লোহান হোসেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে চক্রের মূলহোতা সিনথিয়া বিভিন্ন সময় নাম পরিবর্তন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্সিগঞ্জেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে রমজান শেখ নামে আরেক ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।
পরবর্তীতে অনলাইনের মাধ্যমে পুলিশ তার প্রকৃত নাম ‘সিনথিয়া ওরফে ফাহমিদা ইয়াদ’ হিসেবে শনাক্ত করে বলে জানা গেছে।
মুন্সিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান এবং ঢাকার আদালত পৃথক মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
বর্তমানে মুন্সিগঞ্জের মামলায় চক্রের দুই সদস্য কারাগারে রয়েছেন। তবে মূলহোতাসহ অন্য অভিযুক্তরা এখনো পলাতক।
মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন ছাড়া পলাতক অন্য সদস্যদের ধরতে মুন্সিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালাচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিনথিয়া ও তার চক্রের বিষয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে পুরো চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।





